আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে চার মাসে ৫৪ জন অপহরণ!

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৪, ০৯:৫৬

চলতি বছরের প্রথমার্ধে অপহরণ ও খুন অনেক বেড়ে যায়। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ৫৪ জন অপহরণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এদের মধ্যে আট জন ফিরে আসেন, ১৫ জনের মৃতদেহ পাওয়া যায় এবং বাকিরা এখনও নিখোঁজ। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন: চাই প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে আসক। অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের যত অভিযোগ কমিশনে আসে, তার অধিকাংশই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এটা দুর্ভাগ্য যে আমাদের রাষ্ট্র এখনো মানবাধিকারের প্রতি পুরোপুরি শ্রদ্ধাশীল নয়। অপরাধীরও যে মানবাধিকার আছে, এ সত্যটা আমরা মানতে চাই না। তিনি বলেন, পুলিশে অব্যবস্থাপনা রয়েছে।  তেমনি আরো অনেক সংস্থাও এর ব্যতিক্রম নয়।
ড. মিজানুর রহমান আরো বলেন, মানবাধিকার কমিশনের আইনের ত্রুটি দূর করতে হবে, লোকবল নিয়োগ ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ২০১৫ সালের মধ্যে চারটি বিভাগীয় শহরে কমিশনের পৃথক চারটি শাখা স্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্রে র নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সীমিত ক্ষমতা নিয়ে সুন্দরভাবেই কাজ করছে। তবে তাদের ক্ষমতা এতই সীমিত যে তা জাতীয় আকঙ্খার খুব কমই পূরণ করতে পারছে। তিনি বলেন, সমাজে অনেক অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যে আমাদের বাস করতে হয়। মানুষ বিচার পায় না। এসব ক্ষেত্রে কমিশন আরো ভালো ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আসকের কর্মকর্তা আকলিমা ফেরদৌস লিসা। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে সীমান্তে ৮৫টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২০১৩ সালের জঙ্গিবাদ বিরোধী আইন ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার এবং সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। দুর্নীতি দমন আইন-২০০৪ সংশোধন করে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে দুদকের এখতিয়ার খর্ব করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সরকারের প্রতি ৫ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের আহবান জানানো হয়।  এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এশিয়ার ১৭টি দেশের বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘এএনএনআই’র প্রতিনিধি জোসেস কুয়ান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফোরাম এশিয়ার সাইদ আহমেদ।