আকাইদ
উদ্দীপক:
মিলন ও হাবিব একই কলেজে পড়ে। তারা খুব ভালো বন্ধু । তারা একসাথে দুজন সুন্দরবন বেড়াতে যাবে বলে দিন তারিখ ঠিক করলো । মিলন পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে হাবিবের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে । কিন্তু হাবির ঐ দিন মিলনের সাথে আর দেখা না করে স্কুলে যাবার নাম করে মাকে বলে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে। পরে ওর মা জানতে পারে আজ ওর স্কুল বন্ধ। পরদিন যখন হাবিব আর মিলনের দেখা হয় তখন এ নিয়ে তাদের উভয়ের মাঝে ব্যাপক ঝামেলা হয়। এক পর্যায় তাদের মাঝে হাতাহাতি হয় ।
ক.আখিরাত শব্দের অর্থ কী ?
খ. আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস বলতে কী বুঝায়?
গ. উদ্দীপকে হাবিবের আচরণে কী প্রকাশ পেয়েছে ? বুঝিয়ে বলো।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত হাবিবের এরূপ আচরণের পরিণতি কী? তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর:
ক. আখিরাত শব্দের অর্থ পরকাল।
খ. দুনিয়ার জীবনের পর মানুষের আরো একটি জীবন রয়েছে। এ জীবন স্থায়ী ও অনন্তকালের । যে জীবনের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই । মানুষ দুনিয়ার জীবনে যেমন কাজ করবে আখিরাতে তেমন ফল ভোগ করবে । দুনিয়ায় ভালো কাজ করলে আখিরাতে পুরস্কার পাবে আর খারাপ কাজ করলে শাস্তি ভোগ করতে হবে। আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস বলতে এটাই বুঝায়।
গ.উদ্দীপকে হাবিবের আচরণে মুনাফিকীর লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে । কারণ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম শরিফের হাদিসে মুনাফিকের তিনটি আলামতের কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে হাবিবের আচরণে দুইটি আলামতই পাওয়া গেছে। প্রথমত সে মিলনের সাথে কথা দিয়ে কথা রাখেনি । দ্বিতীয়ত সে মায়ের সাথে মিথ্যা কথা বলেছে। আমরা জানি কথা দিয়ে কথা না রাখা এটি ওয়াদা ভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে । হাবিব পূর্বেই মিলনের সাথে সুন্দরবনে যাওয়ার দিন তারিখ ঠিক করে রেখেছিল। অথচ সে মিলনকে কিছু না বলেই অন্যত্র চলে যায়। সুতরাং সে ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। সে স্কুলে যাবার কথা বলে বের হয়েছে। অথচ সে স্কুলে যায়নি। সে তার মাকে মিথ্যা বলেছে। মিথ্যা কথা বলা মুনাফিকের আরেকটি লক্ষণ। হাবিব কিন্তু সেই কাজটিই করেছে। হাবিবের এ কাজের জন্য সে মিথ্যাবাদী বলে প্রমাণিত হয়। অতএব, উদ্দীপকের আলোকে এ কথা স্পষ্টভাবে বলা যায় হাবিরের আচরণে মুনাফিকীর লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ.উদ্দীপকটি লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই মিলন হাবিবের ওয়াদা অনুযায়ী হাবিবের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে অপেক্ষা করছিল। অথচ হাবিব মিলনকে কিছু না বলে অন্যত্র বেরিয়ে পড়ে। সে ওয়াদার পূর্ণ খেলাপ করে । যা মুনাফিকের লক্ষণ। মুনাফিকি আচরণ তথা নিফাক নৈতিকতা ও মানবিকতার আদর্শের বিপরীত কাজ। নিফাক জঘন্যতম পাপ। এটা মানুষের চরিত্র ধ্বংস করে ফেলে। নিফাকের ফলে মানুষ অন্যায় ও অশ্লীল কাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে । নিফাক মানুষের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে ফেলে। নিফাকের ফলে মানুষের মাঝে অবিশ্বাস ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। যেমনটি উদ্দীপকে মিলন ও হাবিবের সম্পর্কের মাঝে ফাটল ধরেছে। সুরা আন নিসার ১৪৫ নং আয়াতে এর পরিণতি সম্পর্কে বলা হয়েছে,‘নিশ্চয়ই মুনাফিকদের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।’ স্বয়ং আল্লাহ তাআলা সুরা মুনাফিকুনের ১ নং আয়াতে মুনাফিকদের মিথ্যাবাদী বলে সাব্যস্ত করেছেন। হাবিব নিফাকের সাথে সম্পৃক্ত। তার আচরণে মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই যদি সে এ মুনাফিকি আচরণ থেকে বেরিয়ে না আসে তবে তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে ভয়ঙ্কর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।
