সাভার-আশুলিয়ার আবাসিক হোটেল অপরাধের ঘাঁটি

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৪, ০১:৪২

সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের আবাসিক হোটেলগুলো দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। হোটেল কক্ষে ঘটছে খুনের ঘটনা। ঘটছে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, জুয়া, অপহরণ শেষে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, ধর্ষণসহ মারাত্মক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এ অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে চলছে এ হোটেলগুলো। হোটেলে বসে মাদক সেবন, জুয়া খেলা ও অসামাজিক কার্যকলাপ এখন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। সাভার-আশুলিয়ায় শতাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। হোটেলগুলোতে এক সময় দেহ ব্যবসা রমরমা থাকলেও বর্তমানে পুলিশ তা বন্ধ করেছে। তবুও অনেক হোটেলে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এখনও এ ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন অপরাধ প্রবণ অঞ্চল থেকে চরমপন্থি, জেএমবি ও সর্বহারার মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে আবাসিক হোটেলে অবস্থান নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়।
সম্প্রতি সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের ইউনাইটেড সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলার ইউনাইটেড আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষ থেকে কালু মিয়া  (৫৫)  নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বাড়ি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার মহাস্থানগর এলাকায়। 
অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অনেক দম্পতি আবাসিক হোটেলে হয়নানির শিকার হয়েছেন। সন্ত্রাসীরা রাতে দম্পতিদের ঘুম থেকে উঠিয়ে মিথ্যা অজুহাত তুলে স্বামীকে পাশের রুমে নিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে। আবার অনেক বর্ডারকে জিম্মি করে টাকা পয়সা লুটেরও ঘটনা ঘটেছে আবাসিক হোটেলগুলোতে। হোটেলে রাত যাপন করতে আসা নির্যাতিতারা মান সম্মানের ভয়ে থানা পুলিশকে না জানালেও সচেতন মহল এ ব্যাপারে ওয়াকিফহাল। আবার কলগার্লদের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেল কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাত যাপন করা হয়।
এছাড়াও  আবাসিক হোটেলগুলো এখন সন্ত্রাসীদের পদচারণায় থাকে মুখরিত। প্রতিটি কক্ষেই বসে মদ ও জুয়ার আসর। এ চিত্র আশুলিয়া থানা এলাকাতেই বেশি। হোটেলে বসে জমি দখল, হত্যা, অপহরণসহ নানা অপরাধের পরিকল্পনা করে সন্ত্রাসীরা। তাই এ অঞ্চলের আবাসিক হোটেলগুলো অপরাধের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিণত হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, আবাসিক হোটেলগুলোতে দেহ ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করা গেলে নিদিষ্ট হোটেলে অভিযান চালানো হবে। তিনি জানান, মাদক ব্যবসা বন্ধেও সংশ্লিষ্ট থানায় কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।