শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী আর্ন্তজাতিক সাহিত্য উত্সব ‘হে ফেস্টিভ্যাল’। বাংলাদেশে চতুর্থবারের মতো এই উত্সব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে। দেশীয় সাহিত্যিক ও লেখকদের লেখা বিশ্বসাহিত্যের দরবারে তুলে ধরাই এই উত্সবের মুল উদ্দেশ্য। আগামী ২০, ২১ ও ও ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই উত্সব। হে ফেস্টিভ্যালের মূল থিম-‘মনের বাধাকে অতিক্রম করে ভিন্ন ভাবে গল্প বলা’। বরাবরের মতো এবারও বিশ্বের ১৩ টি দেশ থেকে শীর্ষস্থানীয় মোট ৬০ জন সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ও বিভিন্ন মাধ্যমের লেখক এই উত্সবে অংশ নেবেন। তাদের চিন্তা, অনুভূতি ও ভাবে বিনিময় ঘটবে এ উত্সবে।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে আয়োজকরা এসব তথ্য জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ডেইলি স্টার এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ড. সালাউদ্দিন আহমেদ, ফেস্টিভ্যাল উপদেষ্টা কাজী আনিস আহমেদ ও ফেস্টিভ্যালের পরিচালক সাদাফ সাজ সিদ্দিকী প্রমুখ।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, ২০ নভেম্বর সকাল নয়টায় অনুষ্ঠানিকভাবে এ উত্সবের সূচনা হবে। এরপর শুরু হবে উত্সবের নানা আয়োজন। তিন দিনের অনুষ্ঠানে মোট ৮০টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এ উত্সবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি লেখকদের বই অনুবাদের কাজও চলছে। দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক খ্যাতিনামা লেখক, শিল্পী, দার্শনিক, বিজ্ঞানী অনুষ্ঠানের মুল আলোচক ও প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এদের মধ্যে—শশী থারুর, সৈয়দ শামসুল হক, জং চ্যাঙ, জয় গোস্বামী, উইলিয়াম ডালরিম্পেল, জন রেলস্টোন সোল, জাভেদ জাহাঙ্গীর, মার্কাস ডু সৌত, জিয়া হায়দার রহমান, রানা দাস গুপ্ত, মির্জা ওয়াহিদ, লুচি হকিং, শাহিন আক্তার, মিমি কালভাথি, প্যাট্রিক ফেঞ্চ এবং গিডিয়ান হেই অন্যতম। দেশিয় খ্যাতনামা কবি ও লেখকদের মধ্যে থাকছেন— সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সৈয়দ আসাদ চৌধুরী, আবির হক, জাবেদ জাহাঙ্গীর ও নিমান সোবহান। আরো অনেক প্রতিভাধর তরুণ লেখক উত্সবের আলোচনায় থাকবেন।
আয়োজকরা জানান, শিশু-কিশোরদের জন্যও চমকপ্রদ কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এই উত্সবে। জাতীয় কবিতা পরিষদের স্বনামধন্য ও তরুণ কবিদের কণ্ঠে স্বরচিত কবিতা, খ্যাতিমান ছড়াকারদের স্বকণ্ঠে ছড়া, নৃ-জাতিগোষ্ঠীর কবিদের স্বকণ্ঠে কবিতা এবং তাঁদের বিলুপ্তপ্রায় ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা থাকবে। আরও থাকবে আঞ্চলিক ভাষার কবিতার উচ্চারণ ও গ্রাফিক্্স গল্প বলার অনুষ্ঠান।
তিন দিনের এ উত্সবের উদ্বোধন হবে ২০ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায়। উত্সব শেষ হবে ২২ নভেম্বর। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উত্সব সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
