খুলনায় দুই বছরেও নির্মাণ হয়নি ২৬ সাইক্লোন শেল্টার

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৪, ০০:২২

দুই বছরেও শেষ করা যায়নি খুলনার দাকোপ ও কয়রা উপজেলার ২৬টি সাইক্লোন শেল্টারের নির্মাণ কাজ। সময়মত অর্থ বরাদ্দ না পাওয়া, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মালামাল পরিবহনে সমস্যা এবং ঠিকাদারদের অর্থ সংকট ও গাফিলতির কারণে সাইক্লোন শেল্টারগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হতে দেরি হচ্ছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে এগুলোর নির্মাণ কাজ চলছে ধীর গতিতে। এতে উদ্বেগে রয়েছেন ওই দুই উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। স্থানীয়দের মতে, সাইক্লোন শেল্টারগুলোর নির্মাণ কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে তা তাদের জানা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি- চলতি অর্থ বছরের মধ্যেই সাইক্লোন শেল্টারগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার উপকূলীয় এই দুই উপজেলা ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত। ‘সিডর’ ও ‘আইলা’র তাণ্ডবে এখানে ব্যাপক ক্ষতি হয়। জীবনহানি ঘটে বহু মানুষের। যার ক্ষত এখনো শুকায়নি। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনসাধারণের জানমাল রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার এই দুই উপজেলায় দ্বিতল ও তিনতলা ভবন বিশিষ্ট স্কুল-কাম-সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর অর্থায়নে এগিয়ে আসে বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা।
২০১২ সালের ডিসেম্বরে প্রথম পর্যায়ে ২৪টি সাইক্লোন শেল্টারের নির্মাণ কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এরমধ্যে দাকোপ উপজেলায় ১৩টি ও কয়রা উপজেলায় ১১টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৮২ কোটি ৫০ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯২ টাকা। পরে কয়রা উপজেলায় আরো দুইটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এ জন্য ব্যয় ধরা হয় আরো ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এক একটি সাইক্লোন শেল্টারে ১৫শ থেকে ৩ হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। সব মিলিয়ে ২৬টি সাইক্লোন শেল্টারের ধারণ ক্ষমতা অর্ধলক্ষাধিক।
সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের প্রথম দিকে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর গত মার্চ মাসের মধ্যে এই সাইক্লোন শেল্টারগুলোর কাজ সম্পন্ন হওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল; কিন্তু এরপর দীর্ঘ আট মাস পেরিয়ে গেলেও সাইক্লোন শেল্টারগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। বর্তমানে এ সকল সাইক্লোন শেল্টারের কাজ চলছে খুবই ধীর গতিতে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খুলনার সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এস.এম তারিকুল হাসান খান বলেন,   সময়মত অর্থ বরাদ্দ না পাওয়া, ঠিকাদারদের বিলের টাকা দিতে দেরি হওয়া এবং অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মালামাল পরিবহনে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় সাইক্লোন শেল্টারগুলোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এগুলো বুঝিয়ে দেয়া হবে।