নেত্রকোনায় শিশু হত্যার অভিযোগে ৪ জনের ফাঁসি

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৪, ১৪:৫০
নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার চক লেংগুড়া গ্রামের প্রবাসী বাদল আহমেদের শিশু পুত্র চক লেংগুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদল্যালয়ের প্রথম শ্রেনীর ছাত্র ইমনকে (৬) নারকীয় এবং নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে দুই সহোদর ভাইসহ চারজনকে ফাঁসি এবং প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেয়া হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলাও দায়রা জজ ড. একএম আবুল কাশেম মঙ্গলবার জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় প্রদান করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, সাইদুল ইসলাম, আল-আমীন, আব্দুর রাশিদ এবং রফিকুল ইসলাম। এদের মধ্যে আব্দুর রাশিদ পলাতক রয়েছেন। পলাতক আব্দুর রাশিদ দুর্গাপুর মহিলা কলেজের এমএলএসএস ছিলেন।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে ২০১৩ সনের ১৯ আগস্ট আসামি সাইদুল ইসলাম তার ভাই আল-আমীন, আব্দুর রাশিদ এবং রফিকুল ইসলামের কথায় ইমনকে তার বাসার কাছ থেকে অপহরণ করে। পরে তাদের কথামত সাইদুল শিশু ইমনকে কাঁধে করে ভারতীয় সীমান্তবর্তী ‘লতাপাতা’ পাহাড়ের নিকট নেবার পথে ইমন কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় ইমনের শরীরের জামা  গলায় পেঁচিয়ে ধরে সাইদুল। কিছুক্ষণ পর ইমন মারা যায় এবং সাইদুল লাশ লতাপাতা পাহাড়ের জঙ্গলে লুকিয়ে রাখে। ইমনের মা নুরুন্নাহার পুত্রের খোঁজ না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ প্রথমে সাইদুলকে আটক করে এবং তার স্বীকারোক্তিতে পাহাড়ের জঙ্গল থেকে পুলিশ ইমনের লাশ উদ্ধার করে। পরে সাইদুলের কথামত বাকি তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। ইমনের মা নুরুন্নাহার বাদী হয়ে চার জনের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের সাক্ষ্য প্রমাণাদি গ্রহন করে এ রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি এডভোকেট জিএম খান পাঠান বিমল এবং আসামি পক্ষে ছিলেন এডভোকেট অজয় বণিক এবং এডভোকেট নজরুল ইসলাম খান।
বিজ্ঞ বিচারক রায়ে বলেন, ‘ইমন অপহরণ ঘটনাটি অত্যন্ত লোমহর্ষক, হৃদয় বিদারক, অমানবিক এবং নারকীয় বিবেচিত হওয়ায় আসামিগণ সমাজের জন্য আতঙ্কস্বরূপ। অপরাধের ভয়াবহতা বিচেনায় নিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে’।