অধ্যাপক শফিউল হত্যাকাণ্ড

রিমান্ড শেষে তিন শিবিরকর্মী কারাগারে

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৪, ২১:৫৩
 
 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম হত্যা মামলায় তৃতীয় দফায় দুই দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে তিন শিবিরকর্মী জিন্নাত আলী, আরিফুর রহমান ও সাগরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রবিবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে অপর আসামি যুবদল ইব্রাহিম খলিল টোকাইবাবু প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পুলিশের হাতে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে অধ্যাপক শফিউলের প্রকৃত হত্যাকারীদের নামোল্লেখ করে কে বা কারা পুলিশের কাছে উড়ো চিঠি দিয়েছে বলে নগরীতে গুঞ্জন চলছে। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলমগীল হোসেন এমন কোনো চিঠি প্রাপ্তির সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, একটি ঘটনা ঘটলে ওই ঘটনায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অনেকে তত্পরতা চালাতে পারে। তিনি কাউকে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।  
জানা গেছে, ড. শফিউলের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মাথার ডান ও বামদিকে এবং ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের ৪টি ভারী আঘাতের চিহ্ন ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিত্সক ডা. জোবাইদুর রহমান জানান, ড. শফিউলের মাথার পেছনের ডান দিকে একটি ৫ ইঞ্চি গভীর, বাম দিকে ২টি ৬ ইঞ্চি গভীর এবং ডান কানের কাছে একটি ভারী ধারালো অস্ত্রের (চাপাতি) আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ওইসব আঘাতে ব্রেণ হ্যামারেজ ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অধ্যাপক শফিউলের মৃত্যু হয়েছে। তবে সুরতহাল রিপোর্টে চাহিদা ও সন্দেহ না থাকায় নিহত অধ্যাপকের ভিসেরা সংরক্ষণ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
এদিকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুইটি ইনজেকশনের সিরিঞ্জ পাওয়ার কথা সাংবাদিকদের বললেও ওই সিরিঞ্জের বিষয়টি বেমালুম চেপে যাওয়া হয়েছে। সিরিঞ্জ দু’টি কারা কি জন্য সেখানে ফেলেছিল, সেগুলোর রাসায়নিক ও ফিঙ্গার প্রিন্ট পরীক্ষা করা হয়েছে কীনা? এমন প্রশ্নের জবাবে নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, ওই সিরিঞ্জ দু’টি অনেক পুরনো হওয়ায় সেগুলো আশারত হিসেবে আমলে নেওয়া হয়নি। তাই ওই সিরিঞ্জের রাসায়নিক ও ফিঙ্গার প্রিন্ট পরীক্ষার প্রয়োজন হয়নি। তবে ময়নাতদন্তের তাদের হস্তগত হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা শাখার সহকারী কমিশনার (এসি) ইফতে খায়ের আলম জানান, ড. শফিউল হত্যা মামলায় আটক জিন্নাত, আরিফুল ও সাগরকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা যাবে না।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার ভাড়া বাসার সামনে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অধ্যাপক শফিউল খুন হন।