সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলাম লিলন (৫০) হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী কর্মকর্তা এবং বগুড়ার এক ছাত্রশিবির নেতাকে পুলিশ খুঁজছে। নারী কর্মকর্তার স্বামী যুবদল নেতা পিন্টু এই হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। অন্যদিকে র্যাব ও পুলিশের পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে অধ্যাপক শফিউল হত্যায় সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করলেও গতকাল রবিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করেছে আসামি ইব্রাহিম খলিল টোকাই বাবু। এনিয়ে র্যাবের হাতে আটক ছয় আসামির সকলেই আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকার করলো।
প্রসঙ্গত, এরআগে গত ২৫ নভেম্বর একই কায়দায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানায় টোকাই বাবুর অপর ৫ সহযোগী মানিক, কালু, পিন্টু, সবুজ ও মামুন। ওইদিন মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক খালিদ হাসানের আদালতে আরিফুল ইসলাম মানিক ও সিরাজুল ইসলাম কালুকে, তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন আক্তারের আদালতে আব্দুস সালাম পিন্টু ও সবুজ শেখকে এবং পঞ্চম আদালতের বিচারক জয়ন্ত রাণী দাসের আদালতে আল মামুনকে হাজির করা হয়। তারাও রাব ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অধ্যাপক শফিউল হত্যায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছিল বলে র্যাব ও পুলিশ জানায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি টোকাই বাবু অধ্যাপক শফিউল হত্যায় নিজের ও সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন। এরআগে তিনি র্যাবের কাছেও এই হত্যায় সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এ জন্য গতকাল রবিবার দুপুরে তাকে রাজশাহীর মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন আক্তারের আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু দিনভর অপেক্ষা শেষে টোকাই বাবু ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান, অধ্যাপক শফিউল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বামী যুবদল নেতা আবদুস সালাম পিন্টু র্যাবের হাতে আটকের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিভাগের সেকশন অফিসার নাসরিন আক্তার রেশমা। এই মামলার মোটিভ উদঘাটনের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। কিন্তু তাকে কর্মস্থল ও বাসা এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতেও পাওয়া যাচ্ছে না। তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, আলোচিত হিসাব বিভাগের সেকশন অফিসার নাসরিন আক্তার রেশমার নৈমিত্তিক ছুটি পাওনা নেই। তিনি বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে অর্জিত ছুটির আবেদন করেছেন। সেটা নিয়মানুযায়ী রেজিস্ট্রারের দপ্তরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার ছুটি মঞ্জুর হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।
অপর দিকে অধ্যাপক শফিউল হত্যাকাণ্ডের সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর ঘটনার দায় স্বীকার করে ফেইসবুক পেইজে ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২’ নামে স্ট্যাটাস দেয়ার ঘটনার মূলহোতা বগুড়ার একটি সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতিকে পুলিশ খুঁজছে। এই ঘটনায় বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে স্থানীয় ক্যাডেট মাদ্রাসা শিক্ষক ও জামায়াত কর্মী শরিফুল ইসলাম এবং বগুড়া সদরের মাদ্রাসা ছাত্র ও ছাত্রশিবিরের কর্মী রায়হানুল ইসলাম স্বাধীনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর নগরীর চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ ভাড়ার বাসার সামনে অধ্যাপক শফিউল দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন।
