লেজার সার্জারির নামে কিডনিই ফেলে দিলেন প্রফেসর সাব্বির

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ২৩:৩৯

রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক রোগীর কিডনির পাথর অপসারণ করতে গিয়ে কিডনিই কেটে ফেলা হয়েছে। যা নিছক দুর্ঘটনা বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিত্সক প্রফেসর মোঃ সাব্বির।

গত ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাবুল সরকারের কিডনি কেটে ফেলার ওই ঘটনার চারদিন পর উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওই চিকিত্সকের বিরুদ্ধে উত্তরা (পশ্চিম) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তার শ্যালক মো. মোমেন সরকার। হাসপাতালের চেয়ারম্যানের কাছেও অভিযোগ করা হয়েছে। মোমেন সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, কোমরের পিছনে ব্যথা নিয়ে তার ভগ্নিপতি গত মাসের শেষদিকে ওই হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. সাব্বির আহমেদের অধীনে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কিডনিতে পাথর হয়েছে জানিয়ে লেজার পদ্ধতিতে স্টোন অপসারণ করার কথা বলেন চিকিত্সক। এজন্য ২০ হাজার টাকা খরচ হবে বলেও জানিয়েছিলেন অধ্যাপক সাব্বির। ওই  চিকিত্সকের পরামর্শে ২৬ নভেম্বর সকালে বাবুল সরকারকে ঐ হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে নেয়া হয়।
“কিছুক্ষণ পর চিকিত্সক এসে আমার বোনকে (বাবুলের স্ত্রী) তার স্বামীর ডান কিডনি কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানান।
বাবুল সরকারের স্ত্রী সুরাইয়া বলেন, কিডনি কেটে ফেলতে হবে—এ কথা ডাক্তার অপারেশনের আগে জানাননি। পরে আমাকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে।” কিডনি হারানোর কথা বাবুলকে এখনো বলা হয়নি বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এটা একটা অ্যাক্সিডেন্ট মাত্র। তবে অপারেশন করার আগেই কিডনি কেটে ফেলতে হতে পারে বলে বাবুল সরকারের স্ত্রীকে জানানো হয়েছিল।” এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যাতে হাসপাতালেরই তিন অধ্যাপককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কমিটিকে প্রতিবেদন দেয়ার কোন সময়ও বেঁধে দেয়া হয়নি। 
মঙ্গলবার ঘটনা জানাজানি হলে ‘বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর’ ডটকমের প্রতিবেদক হাসপাতালের পরিচালক মো. শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়ে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।
হাসপাতালের পরিচালক মো. শাহজাহান বিশ্বাস বলেন, ৩০ নভেম্বর একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ১ ডিসেম্বর কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তবে সহকর্মীদের দিয়ে চিকিত্সক সাব্বির আহমেদের বিষয়ে তদন্ত হলে তা সুষ্ঠু হবে না বলে মনে করছেন মোমেন সরকারের বড় ভাই শাহিন সরকার। অন্য হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক দিয়ে ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে সিভিল সার্জনের অনুমতি না পাওয়ায় মোমেন সরকারের অভিযোগটি মামলা আকারে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে উত্তরা (পশ্চিম) থানার এসআই মো. মামুন জানিয়েছেন। অভিযোগ দায়েরের সময় অভিযোগকারীকে মামলার জন্য ঢাকার সিভিল সার্জনের অনুমতি নেয়ার বিষয়টি জানানো হলেও বুধবার পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। “সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনের অনুমতি ছাড়া ওই চিকিত্সকের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত করা যাচ্ছে না।” অনুমতি পেলেই যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।