সমুদ্রপথে পাচার ও চোরাচালানের জন্য ব্যবহূত নৌযানে করে ২০১৪ সালে প্রায় ৫৩ হাজার মানুষ বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। আর বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে গিয়ে নির্যাতন ও অনাহারে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪০ জন। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সমুদ্রপথে সহিংসতা সত্ত্বেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক মানুষ পাচারকারীদের নৌযানে করে পাড়ি দিতে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন।
সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়েছেন এমন মানুষের সঙ্গে কথা বলে ইউএনএইচসিআর জানতে পেরেছে, বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের সমুদ্রপথে ৫৪০ জন আরোহী মারা গেছে। অনেকে ক্রুদের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে, খাদ্য পানির অভাবে আবার অনেকে বেপরোয়া হয়ে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে মারা গেছে। গন্তব্যে পৌঁছানোর পরও অনেক কিছু তাদের জন্য সুখকর হয় না। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর শত শত মানুষকে গ্রেফতার করেছে কর্তৃপক্ষ। গ্রেফতারকৃতদের কেউ কেউ শরণার্থীর মর্যাদা দাবি করছে এবং কাউকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আবার অনেকে অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে সমুদ্রপথে তাদের যাত্রা অব্যাহত রাখছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যাত্রা করার আগে পাচারকারীরা অর্থ দাবি করে থাকে। কিন্তু যাত্রীদের পরিবারগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত বেশি অর্থ না দেয় ততক্ষণ তাদের মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। অনেক সময় তাদেরকে নিষ্ঠুর বন্দী শিবিরে মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়। আদম পাচারকারীরা প্রত্যেকের জন্য মাথাপিছু ১৬শ’ থেকে ২৪শ’ ডলার নেয়।
