ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দেয়ার দাবিতে ভর্তিচ্ছু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগস্থ পাবলিক লাইব্রেরির সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১৫জন। ঘটনাস্থল থেকে ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম জিলানী শুভসহ আটক করা হয় তিনজনকে। পুলিশ আন্দোলনরত কয়েকজন ছাত্রীর ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরতরা। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল শাহজাহান ও শিক্ষার্থী ফারজানা ও সাদিয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারী সূত্রে জানা যায়, পুর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার দিকে স্মারকলিপি দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে যেতে চাইলে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সাথে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তিতে ৫ শিক্ষার্থী আহত হন। পরে পাবলিক লাইব্রেরির সামনের রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান নেন তারা। এতে রাস্তার একপাশে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহবাগ থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা হাবিলুর রহমান আন্দোলনকারীদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বললে ফের পুলিশের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম কর্মসূচিতে এসে তাদের ব্যবহূত মাইকের সংযোগ বন্ধ করে সাউন্ড বক্স নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ জলকামান থেকে পানি ছুঁড়ে ও লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
আন্দোলনকারী ছাত্রী ফারজানা জানান, বিনা কারণে পুরুষ পুলিশরা আমাদের (নারী আন্দোলনকারী) উপর বুট দিয়ে লাথি মেরেছে, লাঠিপেটা করেছে। এতে আমাদের অনেক ছাত্রীর কোমর, পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লেগেছে। এ ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
এদিকে দুপুর ১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যায়। এসময় কার্যালয়ের মেইন গেটে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা তাদের স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।
সন্ধ্যায় শাহবাগ থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আটককৃতরা থানায় আছেন। তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে রাতে রাজু নামের আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী জানান, অবিলম্বে আটককৃতদের মুক্তি না দিলে আজ (সোমবার) আমরা নতুন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।