দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল সম্পর্কে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য করায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বগুড়ার আদালতে মঙ্গলবার সকালে মামলা দায়েরের পর বিকেলে তা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক আবুল কালাম আজাদ মামলাটি খারিজ করে দেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল সম্পর্কে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বগুড়ার আদালতে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মামলা দায়ের হয়।
জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার চরশিমুল গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করলেও সার্বিক পর্যালোচনা শেষে বিকেল ৪টায় বিচারক একে আজাদ তা খারিজ করে দেন। মামলায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সমন জারির আবেদন করা হয়েছিল।
বিকেলে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক আবুল কালাম আজাদ মামলাটি খারিজ করে দেন। বিচারক তার আদেশে বলেন, মামলার আসামি সরকারের একজন সম্মানিত মন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের বিষয়ে হস্তক্ষেপকারী নিশা দেশাইকে দুই আনার মন্ত্রী বলে সমালোচনা করেছেন, এরুপ বক্তব্য কোনোভাবেই মানহানির পর্যায়ে পড়েনা।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান তার মোয়াক্কেলের আরজীর উদ্বৃতি দিয়ে জানান, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত ১১ নভেম্বর’ ১৪ খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালকে ‘দুই আনার মন্ত্রী’ বলে মন্তব্য করেছেন। এতে দেশের সকল মানুষের অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন এবং জাতি হিসেবে আমরা দেশ ও বহির্বিশ্বে অসম্মানিত হয়েছি এবং মান-সম্মানহানি হয়েছে।
এছাড়া এই মন্তব্য বাদীর মর্যাদা ও মান-সম্মানের হানীসহ যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সকল সম্পর্কের বিঘ্ন ঘটিয়েছে এবং বাংলাদেশ সার্বভৌমত্বের ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে।
মামলায় দৈনিক প্রথম আলো ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদকসহ মোট ৫ জনকে স্বাক্ষী করা হয়েছিল।
মামলা খারিজের পর বাদী জাহাঙ্গীর আলম জানান, এবিষয়ে তিনি জজ কোর্টে আপিল করবেন। মামলা দায়েরের পর মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
