রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন ছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আটকের ৪ ঘণ্টা পরই জামিন দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে বিচারক শারমিন আক্তার তাদের জামিন দেন। রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক আবুল হাসেম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জামিনপ্রাপ্তরা হলেন, দুর্ঘটনা কবলিত ‘ইসলাম পরিবহনে’র বাসের ড্রাইভার আব্দুল বাতেন ও হেলপার ইমরান হোসেন এবং রাজশাহী কলেজের ভাড়া করা বাসের (লাকি পরিবহন) হেলপার ইজাবুল হক।
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় নগরীর শিরোইল কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল থেকে আসামি আব্দুল বাতেন, ইমরান হোসেন ও ইজাবুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সকাল ১০টায় তাদের দুর্ঘটনার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্র জানায়, বেলা সাড়ে ১১টায় তিন আসামিকে রাজশাহীর মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে হাজির করা হয়। দুই তরফা শুনানি শেষে আদালতের বিচারক শারমিন আকতার আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে নগরীর মেহেরচন্ডি দক্ষিণপাড়া থেকে পুলিশ লাকি পরিবহণের বাসের ড্রাইভার আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করে। ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে বুধবার দুপুরে একই আদালতে রাষ্ট্র ও আসামী পক্ষে শুনানী শেষে আব্দুর রাজ্জাক জামিন লাভ করেন।
এদিকে গ্রেফতারে পর অভিযুক্ত দুই বাসের চালক ও হেলপারের জামিনে মুক্তির খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান। এ সময় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। অধ্যক্ষ আরও জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সকল দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য শিগগিরই চারটি বাস কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে তিনটি বাস কেনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ ডিসেম্বর কাটাখালীতে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাজশাহী কলেজের ছাত্রীদের বহনকারী বাস খাদে উল্টে পড়ে তিন ছাত্রীর মৃত্যু ও ৩০ ছাত্রী আহত হন। ওই রাতে পুলিশ নগরীর মতিহার থানায় উভয় বাসের ড্রাইভার ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ে করে। ঘটনার পর থেকেই দুই বাসের ড্রাইভার ও হেলপার পলাতক ছিলেন।
