চট্টগ্রামে পিডিবি’র অনুমান নির্ভর বিদ্যুত্ বিলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ গ্রাহকরা। মিটারের রিডিংয়ের সাথে বিলের মিল খুঁজে পান না গ্রাহকরা। বহিরাগত লোক দিয়ে রিডিং সংগ্রহ করে গ্রাহকদের কাছে বিল দেয়া হচ্ছে। পিডিবি’র কর্মকর্তারা জানান, ২০/২৫ বছরের পুরনো সেটআপ দিয়ে মিটারের রিডিং সংগ্রহ ও বিল বিতরণের কাজ চলছে। এই সময়ের মধ্যে গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। চট্টগ্রাম জোনে মিটার রিডারের ১২৩ জন জনবলের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছে ৬৪ জন।
বিদ্যুতের বাড়তি বিল নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিদ্যুতের বিল হাতে পেয়ে গ্রাহকদের কপালে ভাঁজ পড়ছে। কয়েক মাস ধরে প্রতিমাসে বিলের ঊর্ধ্বগতি কারণ মানুষ খুঁজে পাচ্ছে না। অনেকেই বিল নিয়ে পিডিবি অফিসে যাচ্ছে কারণ জানতে। বিদ্যুত্ কর্মকর্তারা পরের মাসের বিলে টাকার পরিমাণ কমিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু গ্রাহকদের দাবি, মিটারের রিডিং সংগ্রহ করে সঠিক বিল প্রদান করা হোক।
পিডিবি জানায়, চট্টগ্রাম জোনে বর্তমানে প্রতিমাসে ১৬০ থেকে ১৮০ কোটি টাকা বিদ্যুত্ বিল বাবদ আয় হচ্ছে। গ্রাহকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ডিজিটাল মিটার চালু হওয়ার পর থেকে গ্রাহকদের বিলের বোঝা বেড়েছে। ভুয়া ও অনুমান নির্ভর বিলের কারণে নগরীতে সীমিত আয়ের ভাড়াটিয়ারা বেকায়দায় পড়েছেন। কারণ বিদ্যুত্ ও গ্যাস বিল ভাড়াটিয়াদের পরিশোধ করতে হয়।
ভুক্তভোগী মানুষের অভিযোগ, পিডিবি’র নিজস্ব মিটার রিডারদের মিটার থেকে রিডিং সংগ্রহ বা বিল বিতরণে দেখা যায় না। পিডিবি’র মিটার রিডারদের তত্ত্বাবধানে বহিরাগত লোক দিয়ে এই কাজ চলছে। পিডিবি পাথরঘাটা বিতরণ বিভাগ সূত্র জানায়, তাদের ৪২ হাজার গ্রাহক রয়েছে। মিটার রিডার রয়েছে ৬ জন। আর নিয়ম মোতাবেক একজন মিটার রিডার ১ হাজার ২৫০টি মিটারের রিডিং সংগ্রহ করতে পারে। সেই হিসাবে তাদের প্রায় ৩২ জন মিটার রিডারের প্রয়োজন। পাহাড়তলী বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মকবুল হোসেন জানান, তার ৫০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। মিটার রিডার আছে ৪ জন। ফলে বাধ্য হয়ে মিটার রিডারদের তত্ত্বাবধানে বহিরাগত লোক দিয়ে বিল সংগ্রহের কাজ করতে হচ্ছে। বহিরাগত এসব লোককে পারিশ্রমিক বাবদ মিটার প্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা প্রদানের পিডিবি’র অফিসিয়াল অনুমোদন রয়েছে।
বাকলিয়া বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ কাউছার মাসুম জানান, তার ৫৪ হাজার গ্রাহকের বিল আদায়ের জন্য ৫ জন মিটার রিডার রয়েছে। বহিরাগত লোক দিয়ে বিলিংয়ের কাজ করায় গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
পিডিবি’র শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, মিটার রিডারের জনবল বাড়িয়ে অনিয়ম বা দুর্নীতি কমানো যাবে না। বরং অনিয়ম বাড়বে। ফলে বিল আদায়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিকল্প উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
