ওবামার নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশিদের খুব বেশি লাভ হবে না

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪, ২৩:৫৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাহী আদেশে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা খুব বেশি লাভবান হবেন না। অন্যদিকে এই আদেশের পর কার্যত সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং অবৈধদের বহিষ্কারে কঠোর হচ্ছে দেশটির প্রশাসন। স্থানীয় সময় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সংগঠন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত ইমিগ্রেশন বিষয়ক এক টাউন হল মিটিংয়ে বিশেষজ্ঞরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে জুইস সেন্টারে এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টাউন হল মিটিং মিটিংয়ে বিপুল প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এটর্নি শেখ সেলিম ও মঈন চৌধুরী এবং ইমিগ্রান্ট বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের এবং নাসরিন আহমেদ ওবামার নির্বাহী আদেশের বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আশপাশের দেশের অভিবাসীদের স্বার্থকে লক্ষ্য রেখে। ২০ থেকে ২৫ হাজার বাংলাদেশি এই আদেশের সুবিধাভোগ করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, অনেক বছর ধরে অবৈধ অভিবাসীদের স্বার্থে কোন আইন বা অধ্যাদেশ জারি হচ্ছিল না। এই নির্বাহী আদেশ গুমোট পরিস্থিতিতে এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টির মত। তবে অবৈধ অভিবাসীরা আরো অভিবাসী বান্ধব বিল কংগ্রেস ও সিনেটে পাস হবে বলে স্বপ্ন দেখছেন। তবে ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাস করতে হলে কোনভাবে ভুল তথ্য দেয়া যাবে না ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে। কোন অপরাধও করা যাবে না। অতীতে যারা ভুল তথ্য দিয়েছেন, তাদের অনেককেই তলব করা হচ্ছে। একাধিক নাম ব্যবহারকারীরা মার্কিন সিটিজেন হয়ে গেলেও তাদের জন্য দুঃসংবাদ হচ্ছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অতীতের সকল তথ্য ডিজিটাইজড করছে। এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় অতীতে অনেকের একাধিক নাম ব্যবহারে রেকর্ড বেরিয়ে আসছে। তাদের ওপর নেমে আসছে আইনি খড়গ। কখনও কখনও দেশ থেকে ফেরার পথে ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে একাধিক নাম ব্যবহারকারীদের দেশে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তারা আরো বলেন, ওবামা ঘোষিত নির্বাহী আদেশ নিয়ে বিস্তারিত এখনই কিছু বলা যাবে না।

টাউন হল মিটিংয়ের সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল আহসান এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দর্পণ কবীর ও যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ।