কৃষি অনুষদের ‘ধূমকেতু’

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে ক্যাম্পাসের প্রতি ভালোবাসা বাড়তে থাকে। ক্যাম্পাসের নতুন মুখগুলি হয়ে উঠে চির চেনা। মানুষগুলির সাথে তৈরি হয় আত্মিক বন্ধন। বন্ধু-বান্ধবের সাথে আাাড্ডা, ঘোরাঘুরি, ক্লাস, এসাইনমেন্ট— এসব নিয়েই কেটে যায় ক্যাম্পাসের সেরা দিনগুলি। চারটি বছর পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দময় জীবন সুতায় হঠাত্ টান পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ মুহূর্ত ঘনিয়ে আসার কথা মনে করতেই বিষণ্নতা ঘিরে ধরে; কিন্তু নির্দিষ্ট নিয়মে সবাইকে ছেড়ে যেতে হবে, জায়গা করে দিতে হবে নতুনদের। তাই বিদায় বেলায় ক্যাম্পাসকে আরো স্মৃতিময় করে রাখতে সবাই একত্রিত হয়ে নিজেদের রাঙায় রঙিন ভুবনে।

ঠিক তেমনি বিদায়ী ঘণ্টা বেজেছিল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের   কৃষি অনুষদের ৭৩ ব্যাচ ধূমকেতুর। চার বছর আগে কৃষিবিদ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। চোখের পলকেই দিনগুলি কেটে গেল। চার বছরে ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে হাজারো স্মৃতি। স্নাতক পাস করার পর এক একজন এক এক বিভাগে স্নাতকোত্তর করবে। ফলে আর একসঙ্গে ক্লাস, পিকনিক, আড্ডা দেওয়া হবে না। তাই স্নাতক পাস করার পর                   সবাই মেতে উঠি র্যাগ-ডের মহানন্দে। কথাগুলো এভাবেই বলছিলো ৭৩ ব্যাচ ধূমকেতুর শিক্ষার্থীরা। চার দিনব্যাপী র্যাগ-ডে অনুষ্ঠানের সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই শুরু হয় সাংস্কৃতিক মহড়া। আলপনায় সাজিয়ে তোলে ক্যাম্পাস। কৃষি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের দেয়ালে একে দেয় নিজেদের স্মৃতির স্বাক্ষর। কেক কাটার মধ্য দিয়ে র্যাগ-ডে শুরু হয়। শোভাযাত্রা শেষে রঙের উত্সবে মেতে উঠে সবাই। দীর্ঘ চার বছর ধরে এক ঝাঁক সহপাঠীর সাথে কাটানো আনন্দঘন কিন্তু বিচ্ছিন্ন মুহূর্তগুলি এই দিনে যেন এক মোহনায় এসে মিলিত হয়। চারদিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফানুস উড়ানো, আতশবাজি ফোটানো, ডিনার পার্টি আয়োজন করা হয়।