সম্ভাবনা রয়েছে ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টে

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:২৭

ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজম ম্যানেজমেন্ট পেশার মতো এমন ব্যাপক ব্যাপ্তি কিন্তু খুব কম ক্যারিয়ার অপশনেরই থাকে। সরকারি পর্যটন দপ্তর, ইমিগ্রেশন ও কাস্টম সার্ভিস, ট্র্যাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইন্স, ট্যুর অপারেটর, হোটেলের মতো প্রত্যক্ষ এবং এয়ারলাইন ক্যাটারিং বা লন্ড্রি সার্ভিস, গাইড, অনুবাদক, টুরিজম প্রোমোশন ও সেলস সংস্থার মতো পরোক্ষ একগুচ্ছ ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এই ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজম ম্যানেজমেন্ট। যার একহাত ছড়িয়ে থাকে বড়-বড় ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির দোরগোড়া পর্যন্ত, অন্যটি গিয়ে থেমেছে ছোট্ট প্রাইভেট ট্র্যাভেল এজেন্টের অফিসের ভিতরে।

এই পেশায় যারা আসতে চাচ্ছেন তাদের মনে রাখতে হবে যে, এখানে আপনার কাজ করতে হবে তাঁদের নিয়ে, যাঁরা কোনো না কোনো কারণে নিজেদের বাড়ির চার দেওয়ালের আরাম ছেড়ে বাইরে বেরিয়েছেন। কেউ হয়তো কর্মসূত্রে, কেউ নিছক ছুঁটি কাটাতে, কেউ আবার বেরিয়ে পড়েছেন স্রেফ ঘোরার আনন্দে! কারো চাহিদা প্যাকেজ ট্যুর, কেউ হয়তো বেরিয়েছেন অন্য কোনো উদ্দেশ্যে। ট্র্যাভেল এজেন্টদের দায়িত্ব ট্যুরিস্ট অথবা কর্মসূত্রে ভ্রমণরত মানুষটির দাবিদাওয়া জেনে নিয়ে তাঁকে সবচেয়ে ভালো পরিষেবা প্রদান করা। এই কাজে আসতে গেলে আর কী কী মাথায় রাখা প্রয়োজন সেসব প্রসঙ্গ নিয়েই সাজানো হয়েছে এবারের আয়োজন।

 

শিক্ষাগত যোগ্যতা

উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরই ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজমের স্নাতক স্তরে ভর্তির জন্য অ্যাপ্লাই করা যায়। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন স্তরে ভর্তির জন্য যেকোনো বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন থাকলেই চলে। তবে কোনো-কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পদ্ধতিতে টেস্ট ও ততপরবর্তী ইন্টারভিউ নিয়ে তবেই ভর্তি নেয়। মাতৃভাষা ছাড়া অন্তত একটি বিদেশি ভাষায় দক্ষতা থাকা বাঞ্ছনীয়। পাবলিক রিলেশন বা অ্যাডভার্টাইসিংয়ে ডিপ্লোমা করে নিতে পারলে আরও ভাল। এই শেষোক্ত কোয়ালিফিকেশনগুলো করেসপনডেন্স কোর্সের মাধ্যমেও করা যায়। 

 

আরো যা যা দরকার

শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি এই পেশায় আসতে হলে আরো যে বিষয়গুলো প্রয়োজন তার মধ্যে কমিউনিকেশন এবং প্রেজেন্টেশন স্কিলের কথা সবার আগে উল্লেখ করতে হয়। একটু ছটফটে স্বভাব, বন্ধুভাবাপন্ন ব্যক্তিত্ব, মানুষের সঙ্গে প্রাণ খুলে মেশার ক্ষমতা, কথাবার্তায় চোস্ত হওয়া, নানা ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারার মতো গুণ এই পেশায় তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে অনেকদূর। নিত্যনতুন ফেসিলিটি ও সার্ভিস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে পারলে তো আরও ভাল। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বা ম্যানেজরিয়াল লেভেলে কাজ করতে হলে আবার অরগ্যানাইজিং এবিলিটি, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, সমস্যায় পড়লে মাথা ঠান্ডা রেখে সমাধান খোঁজার ধৈর্য্য, দল হিসেবে কাজ করার মানসিকতা প্রয়োজন এই গুণগুলো।

 

কাজের পরিধি

বিস্তীর্ণ একটা ক্ষেত্র হওয়ার দরুন টুরিজম সেক্টরে কাজের সুযোগ অনেক। উপরন্তু এখনও অবধি এই পেশায় ভিড়ভাট্টা তেমন বেশি না হওয়ায় চাকরির বাজারও গরমাগরম। চাকরি আছে পাবলিক ও প্রাইভেট, দুই সেক্টরেই। ইনফরমেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট, টুরিস্ট গাইডের মতো নানা পদে কাজ আছে। প্রশিক্ষিত টুরিজম প্রফেশনালদের জন্য কাজ আছে প্রাইভেট সেক্টরে বিভিন্ন ট্র্যাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইন, হোটেল, ট্রান্সপোর্ট ও কার্গো কোম্পানিতে। বিমান পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে-সঙ্গে আমাদের দেশে বিদেশি ট্যুরিস্টের সংখ্যা বছর-বছর বাড়ছে। যেহেতু ক্যারিয়ার অপশন হিসেবে এই পেশায় এখনও লোকজনের আগ্রহ কম, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজারের সংখ্যাও তাই এই জগতে এই মুহূর্তে খুব বেশি নয়। অন্যের অধীনে কাজে ঢুকে হুড়মুড়িয়ে উন্নতির সুযোগ ছাড়াও নিজস্ব ব্যবসা ফেঁদে বসার ব্যবস্থাও এই পেশায় রয়েছে।

 

আয়রোজগার

ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজম ইন্ডাস্ট্রির চাকরিতে সন্তোষজনক বেতন ছাড়াও কর্মী ও তার পরিবারের লোকজনের আজীবন ফ্রি-তে এদিক-ওদিক ঘোরার সুযোগ থাকে। এই জগতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্যালারির পরিমাণও আলাদা-আলাদা। তবে বিদেশি এয়ারলাইন কিংবা বিদেশি কোম্পানির ক্ষেত্রে সাধারণত স্যালারির পরিমাণ একটু বেশিই। তবে অন্যরকম কাজ করার কথা ভাবলে যাদের পেট গুড়গুড় করে না, ঘুরে বেড়ানোয় যাদের আছে প্রবল আগ্রহ, নতুন-নতুন মানুষজনের সঙ্গে আলাপ পরিচয় বাড়াতে, তাদের ভালমন্দের খেয়াল রাখতে (অবশ্যই পারিশ্রমিকের বিনিময়ে!) যাদের আপত্তি নেই, তারা হাসতে-হাসতে চলে আসতে পারেন এই পেশায়।

বিশ্বের এমন অনেক দেশ আছে, যাদের মূল সোর্স অব ইনকামই হলো এই ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম। আমাদের দেশেও এরকম অনেক সুন্দর-সুন্দর জায়গা রয়েছে, কিন্তু অনেকদিন পর্যন্ত সেই জায়গাগুলোয় ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজমের জন্য আদর্শ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ছিলো না, ভাল হোটেল ছিলো না, ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিলো না। এখন কিন্তু সেই ছবিটা অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে। যার ফলে আগামী কয়েক বছরে মধ্যে ট্যুরিস্টের সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়বে বই কমবে না। গতানুগতিক পথে না হেঁটে যারা নিজেরা ঘুরতে বেড়াতে ভালবাসে, তাদের তো অবশ্যই এই পেশায় আসা উচিত। এই পেশায় এসে তারা ট্যুর গাইড হতে পারেন, হোটেল কিংবা ট্রেন ও প্লেন বা হোটেল বুকিং এজেন্সিতে কাজ করতে পারেন।  আমাদের দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজমে চার বছরের কোর্স রয়েছে।  চারবছরের শেষে প্রশিক্ষিত পড়ুয়াদের জন্য কাজের অভাব নেই। ভবিষ্যতেও সেরকম কোনো আশঙ্কাও নেই। বরং সম্ভাবনা আছে কাজের সুযোগ আরো বাড়বে।