কুলখানির ১৯ মাস পর হেফাজত কর্মী উদ্ধার

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪, ১১:৪৯



গত বছর শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর থেকেই নিখোঁজ ছিল মাদ্রাসা ছাত্র হেফাজতে ইসলাম কর্মী আল ফারুক। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ফারুক মারা গেছে বলেই ধরে নিয়েছিল তার পরিবার। এই ভেবে ফারুকের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় গায়েবি জানাজা, কুলখানিসহ সব ধরনের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। তবে এর পাশাপাশি কুমিল্লার চান্দিনা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরিও করে রাখা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। ডায়েরির সূত্র ধরে ফারুকের সন্ধান চালিয়ে যায় পুলিশ। অবশেষে পুলিশের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।

গত বুধবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার কলেজ রোডস্থ মিসকিন শাহ (র.) এর দরগাহ শরীফ থেকে উদ্ধার করা হয় ফারুককে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে উদ্ধার করে ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার ফারুককে পিতামাতার কাছে হস্তান্তর করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপির উপ কমিশনার (ডিবি) কুসুম দেওয়ান ইত্তেফাককে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক জানায় শাপলা চত্ত্বরের ঘটনার পর পুলিশের ভয়ে সে দীর্ঘ ১৯ মাস আত্মগোপন করেছিল। এতো দিন ঢাকা চট্টগ্রামের বিভিন্ন মসজিদ ও মাজারে সে আত্মগোপন করেছিল। কিছুদিন আগে ফারুকের বাবা মা আমাদের জানায় যে ফারুক চট্টগ্রামেই কোথাও আত্মগোপন করে রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বিভিন্ন মসজিদ ও মাজারে অনুসন্ধান শুরু করি। এর ভিত্তিতে গত বুধবার রাতে তাকে মিসকিন শাহ দরগা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।    

এদিকে ফারুককে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী ডিবি‘র  এসআই সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর আল ফারুক চট্টগ্রামে ফিরে বিভিন্ন মাজারে আত্মগোপন করেছিল। এক মাস আগে একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে তার মাকে ফোন করে ফারুক। এ ব্যাপারে ১০ ডিসেম্বর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে একটি অভিযোগ করেন নিখোঁজ ফারুকের মা। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, আল ফারুক কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানার নবাবপুর শিংগাডা এলাকার সোলায়মান বিন মোবারকের ছেলে। সে ঢাকার বাড্ডা এলাকার একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত কর্মীদের সঙ্গে আল ফারুকও ঢাকায় যায়। শাপলা চত্বরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের দুইদিন পরও বাড়ি না আসায় বাবা-মা ভেবেছিলেন ফারুক মারা গেছে। ঘটনার দুইদিন পর তার গায়েবানা জানাজা হয়। এরপর কুলখানি হয়। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাড়িতে মিলাদও পড়ানো হয়।