একদল স্বার্থান্বেষী কুচক্রিমহল কর্তৃক পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনকে ধ্বংসের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ‘সুন্দরবন বাঁচাও আন্দোলন’।
সোমবার দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তৃতায় সংগঠনের আহ্বায়ক প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, সুন্দরবন বাঁচাও আন্দোলনের ব্যানারে গত ২১ ডিসেম্বর একদল গবেষক সুন্দরবনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় পরিদর্শক দল দেখতে পান, ট্যাংকার থেকে তেল বের হওয়ার ১৩ দিন পরও নদীর জোয়ার-ভাটার পানিতে ভাসমান তেলের অংশ ভাসছে। গাছের মূল ও কাণ্ডের গায়ে তেলের আস্তরণ লেগে আছে, যা বনের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হবে। শ্বাসমূলের উপর তেলের আবরণ থাকায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পাওয়ার কারণে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির শিকার হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বন বিভাগের লোকজন টানা তেল সংগ্রহের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। কচুরীপানা ও লতাগুল্ম দ্বারা গ্রাস করা তেল মজুদ করে যেভাবে নদীর পাড়ে মাটির নীচে পুঁতে রাখা হচ্ছে তা বিজ্ঞানসম্মত নয়, মাটির নীচে জমানো তেল মাটির তলদেশ দিয়ে নদীর পানির সাথে মিশে গিয়ে জলজ ও বনজ প্রাণীর ক্ষতির কারণ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একদল স্বার্থান্বেষী কুচক্রিমহল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনকে ধ্বংসের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তা না হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, স্থানীয়রা তাদের জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ডুবে যাওয়া তেল ট্যাংকারের সুকানী, লস্কর ও মিস্ত্রির এলাকার লোকদের সাথে আলাপ হয়েছে। দোকানে তারা চা খেয়েছে। মাস্টারের লাশ ৬দিন পর পাওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে রহস্যজনক মনে হয়েছে। লাশটির মুখ, কান ও মাথার একপাশ আঘাতের কারণে থেতলানো ছিল তারা জানিয়েছে। অথচ জাহাজটির অন্যান্য কর্মচারীরা কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হননি। মাস্টারের ঘটনাটি মৃত্য না হয়ে হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা সন্দেহ করছেন। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে লাশের প্রকৃত রহস্য বের করা উচিত বলে পরিদর্শক দল মনে করছে।
সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে সকল প্রকার নৌচলাচল বন্ধ রাখা, বনের ২৫ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে সকল প্রকার শিল্পকারখানা নির্মাণ বন্ধ করা, বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গদের ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল সুন্দরবনের জন্য কোনো ক্ষতির কারণ হবে না বলে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান বন্ধ এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে সুন্দরবন থেকে তেল নিয়ন্ত্রণে সরকারকে যে প্রস্তাব দিয়েছে তা গ্রহণ করে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সুন্দরবনকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষাসহ ১১ দফা সুপারিশনামা পেশ করা হয়। এছাড়া সুন্দরবন রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘সুন্দরবন বাঁচাও আন্দোলন’ বনের ক্ষতিকারক বিবরণ তুলে ধরার জন্য সেমিনার, লিফলেট বিতরণ, মানববন্ধন এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালনসহ ৫ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
