মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখনো ভীতি রয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে এক অনুষ্ঠানে এ ইস্যুতে কথা বলেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। তিনি বলেন, আমরা ভ্যাট দিতে চাই। তবে ভ্যাট নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে একটা ভীতি আছে। একই ব্যক্তির ওপর বার বার ভ্যাট-ট্যাক্সের চাপ না বাড়িয়ে আওতা বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ভ্যাট প্রদানকারী শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া উপলক্ষে গতকাল ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ছাড়াও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাঠ পর্যায়ে ভ্যাট আদায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে এ ইস্যুতে একাধিকবার কথা বলেছেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতিও। গতকাল শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, দেশ গড়তে হলে সবাই মিলে ভ্যাট দেব। আমরা যেন (এনবিআর-ব্যবসায়ী) মুখোমুখি না দাঁড়াই।
এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান রাজধানীর পুরান ঢাকায় বহুল আলোচিত কেমিক্যালের গোডাউন সরানোর বিষয়ে এনবিআরের উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, সরকার চাইলে পুরান ঢাকার ঠিকানায় কেমিক্যাল আমদানি বন্ধ করে গোডাউন সরানো সম্ভব। ব্যাংকগুলো ওই ঠিকানায় এলসি (আমদানি ঋণপত্র) বন্ধ করলে এনবিআর আমদানির অনুমোদন না দিলে তারা এখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, আমি শিল্প মন্ত্রণালয়ে সচিব থাকার সময় পুরান ঢাকার কেমিক্যাল সরাতে মুন্সীগঞ্জে একটি শিল্পনগরী করার জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বিসিকের উদ্যোগে সেখানে শিল্পনগরীর প্লট তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। তবে ব্যবসায়ীরা যাওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন না।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৬৫ জনের উপরে প্রাণহানি হয়েছে। এর ৯ বছর আগে ২০১০ সালেও নিমতলীর আগুনে পুড়ে মারা যান শতাধিক মানুষ। এসব অগ্নিকাণ্ডের পেছনে পুরান ঢাকায় যত্রতত্র কেমিক্যালের গোডাউনকে দায়ী করা হচ্ছে।
ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার ড. মইনুল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য্য, এনবিআর সদস্য শাহনাজ পারভীনসহ সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবারের বাণিজ্য মেলা থেকে ৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৭ কোটি ১ লাখ টাকা। গত বছর আয় হয়েছিল ৫ কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানে ভ্যাট সম্মাননা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো হাতিল কমপ্লেক্স, ওয়াল্টন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, এসকোয়ার ইলেক্ট্রনিক্স, র্যাংগস ইলেক্ট্রনিক্স, বাটারফ্লাই মার্কেটিং, আরএফএল ইলেক্ট্রনিক্স, ফেয়ার ইলেক্ট্রনিক্স, ডিউরেবল প্লাস্টিক, নাভানা ফার্নিচার এবং রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ।
