শহরের বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁর আবর্জনা, ক্লিনিকের বর্জ্যের ঠিকানা এখন পাবনার ইছামতি নদী। এ ছাড়াও, নদীতীর দখল করে পাকা স্থাপনা গড়ে ওঠারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে পাবনা পৌর এলাকায় ইছামতী নদী ঘুরে দেখা গেছে, নদীতীর দখল করে কেউ কেউ গড়ে তুলেছেন পাকা স্থাপনা। বদ্ধ জলাশয়ের দূষিত আর নোংরা পানি পরিণত হয়েছে মশার প্রজনন ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান বলেন, ‘ইছামতি বর্তমানে মৃতপ্রায়। এর বিরূপ প্রভাবে শহরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়েছে। বার বার নদী খননে উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও অদৃশ্য কারণে তার বাস্তবায়ন নেই। সব সরকার কেবল আশ্বাসই দিয়েছে।’
সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ইছামতি নদী উদ্ধারের বিষয়ে অনেকবারই বিভিন্ন ফোরামে বলা হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের অভাবে কাজ করা হয়নি। তবে এবার জেলায় সরকারি দলের পাঁচজন সংসদ সদস্য আছেন। সবার সাথে কথা বলে সমন্বিতভাবে নদীটি উদ্ধারে কাজ করা সম্ভব বলে মনে করি।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড, পাবনা বিভাগীয় অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম জহুরুল হক বলেন, ‘ইছামতী নদী পুনঃখননে সদিচ্ছার অভাব নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দলের সহযোগিতায় সম্প্রতি ইছামতি নদী দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ সচল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (ভিসিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন করেছে। প্রকল্প প্রণয়ন সম্পন্ন হলেই নদী খননের কাজ শুরু হবে।’
পাবনা জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এরই মধ্যে অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করা হয়েছে। নদী কমিশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সাথে নিয়ে খুব শিগগিরই দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
