অপহরণের ৬দিন পর রাজশাহীর মোহনপুরে স্কুল ছাত্র ফজলে হোসেন রাব্বির (১০) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি ডাইংপাড়ার এলাকার একটি পানি নিষ্কাশনের নাল (খাল) থেকে মোহনপুর থানা পুলিশ মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই অপহরণে জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেয়া ভিত্তিতেই পুলিশ স্কুল ছাত্র রাব্বির লাশ উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- একই গ্রামের আবুল কাশেম (৫০), তার স্ত্রী আসিনুর বেগম (৪০), ছেলে মাজেদুর রহমান সাগর (১৭), হযরত আলীর ছেলে নাজমুল হক (২০) ও আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে
বিপুল সরকার লিটন (১৯)। এছাড়া গত বুধবার বিকেলে মোহনপুর থেকে ৩ অপহরণকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এরা হলেন- একই গ্রামের আমিনুল হোসেন (৩০), শাহাবুদ্দিন (২৮) ও পবার বাগধানী গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (২৮)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহনপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল করিম জানান, ময়না তদন্তের জন্য শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাব্বির লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত ৫ জনকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরআগে প্রথম দফায় গ্রেফতারকৃতদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে চেয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। রবিবার তাদের পুলিশ রিমাণ্ডের আবেদনের শুনানীর কথা রয়েছে।
এদিকে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হামিদ জানান, গত ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে উপজেলার বেড়াবাড়ি ডাইংপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে, স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রাব্বি নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ২২ ডিসেম্বর দুপুরে অপহরণকারী আমিনুল প্রতিবেশির মোবাইল ফোনে রাব্বিকে অপহরণের বিষয়টি জানিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। এ ঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যায় মোহনপুর থানায় আমিনুল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন আলী হোসেন।
