খালটি ভরাট হওয়ায় উখিয়ায় ৩ হাজার হেক্টর জমি আনাবাদি

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪, ০১:১১

জোয়ার-ভাটার রেজু খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থেকে যায়। বিএডিসি বিগত অর্থবছরে এ খালটি খনন করার পরিকল্পনা নিলেও অজ্ঞাত কারণে তা কার্যকর হয়নি।

বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্ট ওয়ালিদং পাহাড়ের পাদদেশ থেকে রেজুখালটির উত্পত্তি। এ খালটি বৃহত্তর রাজাপালং ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রত্নাপালং ও জালিয়াপালং ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় এ খালে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হয়ে আসছিল। এ খালের পানি দিয়ে প্রতি শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদসহ শাক-সবজি উত্পন্ন হত। খালটিতে মাটির বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন, খাল দখল করে স্থাপনা তৈরিসহ নানা কারণে খাল ভরাট হয়ে গেছে। জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসাইন চৌধুরী জানান, ছোট ইনানী ও বড় ইনানী খাল দখল করে স্থাপনা তৈরি করায় খাল ২টি ভরাট হয়ে গেছে। ফলে রেজুখালে জোয়ারের পানি আসছে না।
সরেজমিন, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের রুমখা মনির মার্কেট এলাকা ঘুরে গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় দুই প্রভাবশালী নেতা ড্রেজার দিয়ে খালটি থেকে নির্বিচারে বালি তুলছেন। তারা জানান, মাঝে মধ্যে পুলিশ হানা দিয়ে বালি ভর্তি গাড়ি আটক করলেও অজ্ঞাত কারণে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দা শামসু জসিমসহ একাধিক লোক জানান, খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে গ্রামের পর গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়।

বিএডিসির প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানান, বরাদ্দ কমে যাওয়ায় গত মৌসুমে রেজুখালটি খনন করা হয়নি। চলতি মৌসুমে খালটি খননের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। খাল থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।