তিন ক্রিকেটারকে নিয়ে গড়িমসি

‘মোহামেডানকে পারিশ্রমিক দিতেই হবে’

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:১০

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে ১২ জন ক্রিকেটার দলে নিয়েছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। যার মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ আজিম, রাহাতুল ফেরদৌস ও নুরুজ্জামান। কিন্তু হুট করেই কয়েকদিন আগে তাদের নতুন ক্লাব দেখার জন্য বলা হয়েছে মোহামেডান ক্লাব থেকে। তিন ক্রিকেটারকে অনুশীলনেও অংশ নিতে দেয়নি ক্লাবটি।

তাদের নতুন ক্লাব খুঁজতে নির্দেশ দিয়েছেন মোহামেডানের ম্যানেজার ওয়াসিম খান। ভুক্তভোগী ক্রিকেটার মোহাম্মদ আজিম গত সোমবার গণমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন। যা লিগের নিয়ন্ত্রক ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) নজরেও এসেছে।

গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ বলেছেন, ড্রাফট থেকে নেওয়ার পর এভাবে কোনো ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। ড্রাফট থেকে দলভুক্ত করার পর কোনো ক্রিকেটারকে না খেলালেও তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হবে সংশ্লিষ্ট ক্লাবকে। সেক্ষেত্রে আজিম, রাহাতুল ফেরদৌস, নুরুজ্জামানের সঙ্গে গড়িমসি করেও পার পাবে না মোহামেডান।

প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে আজিমকে ১২ লাখ টাকায়, রাহাতুল ফেরদৌসকে ১০ লাখ টাকায় ও নুরুজ্জামানকে ৫ লাখ টাকায় দল টেনেছিল মোহামেডান। লিগ শুরুর আগে তিন তরুণকে বাদ দেয়ার পাঁয়তারা শুরু করে ক্লাবটি। ড্রাফট হয়ে যাওয়ায় এখন নতুন ক্লাব পাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। যাদের রুটি-রুজির মূল উত্স প্রিমিয়ার লিগ।

এদিকে তাদের জায়গায় নতুন তিন ক্রিকেটারও দলে নিয়েছে মোহামেডান। ড্রাফটে দল না পাওয়া তুষার ইমরান, শাহাদাত হোসেন রাজীব ও সাকলাইন সজীবকে দলে টেনেছে ক্লাবটি। গতকাল প্রিমিয়ার লিগ টি-২০ তে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিরুদ্ধে মোহামেডানের একাদশেও ছিলেন সাকলাইন।

ক্রিকেটারদের সঙ্গে মোহামেডানের নিয়মবহির্ভূত ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে সিসিডিএমের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান কাজী ইনাম। গতকাল বিসিবির এই পরিচালক বলেছেন, ‘আমি এ বিষয় সম্পর্কে পত্রিকা পড়েই জেনেছি। এ বিষয়ে আমি মোহামেডানের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি। মোহামেডান ক্লাব খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলাপ করে বিষয়টা সমাধান করে ফেলবে। সবচেয়ে বড় কথা এটার কোনো সুযোগই নেই। এবার ক্লাবগুলোকে পরিস্কারভাবে বলে দেওয়া হয়েছে, খেলোয়াড়কে দলে নিয়ে না খেলালেও পারিশ্রমিকের পুরোটাই দিতে হবে।’

এদিকে গতকাল যোগাযোগ করা হলে মোহামেডানের ডাইরেক্টর ইনচার্জ ও বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূইয়া বলেছেন, ‘ছেড়ে দিব কীভাবে? এমন তো নিয়ম নেই। দলে নিলে পারিশ্রমিক দিতে হবে। খেলোয়াড় স্বেচ্ছায় চলে যেতে পারে অন্য ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এটা নিয়ে আলোচনার কিছু নেই। আমরা তাকে ছাড়তে পারব না। সেও আমাদের না বলে যেতে পারবে না।’

ম্যানেজার ওয়াসিম খানের বক্তব্য ও খেলোয়াড়দের অভিযোগের কথা জানালে লোকমান হোসেন ভূইয়া বলেছেন, ‘ওয়াসিম কি বলছে এটা বিষয় নয়। খেলোয়াড়রা নিয়ম জানে না বলেই আপনাদের কাছে অভিযোগ করেছে।’

ওয়াসিম খান এ বিষয়ে গতকাল বলেছেন, ‘আমাদের খেলোয়াড় বেশি বলে ওদের অন্য ক্লাব দেখতে বলেছি। ওদের আমরা হয়ত খেলাতে পারব না। ওরা তো আমাদের সঙ্গেই আছে। সমঝোতা করে না যেতে পারলে আমাদের সঙ্গেই থেকে যাবে।’