‘যুবলীগ নেতাকে হত্যার জন্য অস্ত্র আনা হয়’

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৫, ২১:২২
 
 
আধিপত্য ও অভ্যান্তরীণ বিরোধের জের ধরে যুবলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতাকে হত্যা করার জন্যই সংগ্রহ করা হয়েছিল পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র। ঐ কেন্দ্রীয় নেতার বাসা রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছেন  গ্রেফতারকৃত অস্ত্র ব্যবসায়ী সাইফুল্লাহ খান।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ  বৃহস্পতিবার ভোর রাতে তাকে ২টি রিভলবার ,১টি পিস্তল এবং এক হাজার রাউন্ড গুলিসহ পূর্ব বাসাবো এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।  পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত এ অস্ত্রগুলো চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়ার তৈরী। এ ধরনের অস্ত্র বাংলাদেশে খুব কম পাওয়া যায়। শুক্রবার সাইফুল্লাহকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠাবে পুলিশ।
অভিযান নেতৃত্বদানকারী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার (পূর্ব)  জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, গ্রেফতারকৃত সাউফুল্লাহ খান মোবাইল ফোন ম্যাকানিক। কিন্তু তার  আসল ব্যবসা অস্ত্র কেনা বেচা। সাইফুল্লাহর ১/১১ পূর্ব বাসাবোস্থ ‘মোবাইল সার্ভিসিং ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ নামের প্রতিষ্ঠান ( দোকান) থেকে এ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল্লাহ জানিয়েছে, যুবলীগের ঐ নেতাকে হত্যার উদ্দ্যেশে দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত এলাকা থেকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র সংগহ্র  করা হয়েছিল। এরমধ্যে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র তার এক সহযোগীকে দিয়েছে।
অপর দিকে মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার  গোয়েন্দা)  মনিরুল ইসলাম বলেন, যুবলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে ঢাকা মহানগর যুবলীগ (উত্তর) সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক মিক্লি খুন হন।  এ হত্যায় জড়িত সন্দেহে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া সংগঠনের মহানগরের (দক্ষিণ)যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এইচ এম জাহিদ সিদ্দিক তারেক বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। একই বছর আগস্টে মগবাজারে রেলের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কালাবাবুও বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। তার আগে মগবাজার-মালিবাগ-মতিঝিল এলাকায় রেলের জমির একাংশের নিয়ন্ত্রন ছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও তার অনুসারীদের।
ঐ গ্রুপটি সরাসরি যুবলীগ না করলেও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখত। তারাই মূলত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবলীগের এই কেন্দ্রীয় নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।
তিনি আরো বলেন, সাইফুল্লাহ সীমান্ত এলাকা থেকে যার কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে তার সম্পর্কে জানতে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা-এনআইএর কাছে তথ্য চাওয়া হবে। কারা সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র ব্যবসা পরিচালনা করছে, আর সাইফুল্লাহ যার কাছ থেকে অস্ত্র পেল তার সম্পর্কে কোনো তথ্য এনআইএর কাছে আছে কি না তাও জানতে চাওয়া হবে।