ফেনীতে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় সংঘর্ষে বেশ কটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ২৮ জনকে আটক করেছে।
এ ঘটনায় জেলা বিএনপি ও জেলা ছাত্রদল অভিযোগ করেন, সরকারি দলের লোকজন তাদের শোভাযাত্রায় হামলা করেছে। এ সময় পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বিকেলে ফেনী জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের এসএসকে সড়কের (শহীদ শহীদুলাহ কায়সার সড়ক) ওয়াপদা মাঠ এলাকা থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তে এসএসকে সড়কের সমবায় সুপার মার্কেটের সামনে পিছনের অংশে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয় এবং ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
এসময় শোভাযাত্রার পেছনে থাকা পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় পুলিশকে ছাত্রদল কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছুড়ে ছাত্রদল নেতা কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ছাত্রদল কর্মীরা এ সময় শহরের এসএসকে (শহীদ শহীদুলাহ কায়সার) সড়ক ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল এলাকায় অটোরিক্সা ও বাসসহ ২০-২৫টি যানবাহন ভাংচুর করেছে। মহিপালে যানবাহন ভাংচুর করার সময় স্থানীয় যুবলীগ নেতাকর্মীরা এগিয়ে গিয়ে ছাত্রদল কর্মীদের ধাওয়া ও মারধর করে। পুলিশ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রদল কর্মী সন্দেহে ২৮ জনকে আটক করেছে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নঈম উল্যাহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মামুন অভিযোগ করে বলেন, সরকারি দলের সমর্থকরা হামলা করেছে এবং পুলিশ ছাত্রদল কর্মীদের ওপর কাঁদুনে গ্যাস ছুড়েছে। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।
জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু তাহের বলেন, ছাত্রদলের শান্তিপূর্ণ মিছিলে সরকার সমর্থকরা হামলা করেছে। পুলিশ হামলায় সাহায্য করেছে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাহবুব মোরশেদ বলেন, ছাত্রদলের মিছিলের শেষ মুহূর্তে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করা হলে ছাত্রদল বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ ৫টি টিয়ারশেল ও ১৯ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ ২৮ জনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
