রাজশাহীতে খেজুরের গুড় তৈরিতে মেশানো হচ্ছে কাপড় রং! শুধু তাই নয়, বেশি লাভের আশায় খেজুরের রসে চিনি ও হাইড্রোজ ছাড়াও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত চিনিকলের পরিত্যক্ত বর্জ্য চিটা গুড় মেশানো হচ্ছে! শনিবার জেলার চারঘাট উপজেলার মেরামতপুর ও পরানপুর গ্রামে ভ্রাম্যমান আদালতের বিশেষ অভিযানে এমন চিত্র ধরা পড়েছে।
শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিমুল আখতার ও আলমগীর কবীর। তবে ভ্রাম্যমান আদালতের কর্মকর্তারা পৌঁছার আগেই গোপনে খবর পেয়ে ভেজাল খেজুরের গুড় প্রস্তুতকারীরা কৌশলে পালিয়ে যায়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর কবীর জানান, চলতি শীত মৌসুমের শুরু থেকেই এক শ্রেণির অসাধু গুড় প্রস্তুতকারী কাপড়ে ব্যবহৃত রং, চিনি, হাইড্রোজ ও চিনিকলের বর্জ্য হিসেবে চিহ্নিত ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত চিটা গুড় দিয়ে ভেজাল খেজুরের গুড় প্রস্তুত করছে। জেলার বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই কার্যক্রম চলছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। জনস্বার্থে ওইসব কর্মকাণ্ড বন্ধে শনিবার দিনভর চারঘাটের বিভিন্ন এলাকায় সাড়াশি অভিযান চালানো হয়।
তিনি আরো বলেন, অভিযান পরিচালনাকালে প্রায় ১০ মন ভেজাল খেজুর গুড়, চিটা গুড় ও ক্ষতিকারক কেমিক্যাল জব্দ ও জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডা. আব্দুল আলীম বলেন, খেজুরের গুড়ে এভাবে কাপড়ের ক্ষতিকারক রং, হাইড্রোজ, চিনি, চিটা গুড় মিশিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করানো হলে লিভার, কিডনী, জন্ডিসসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
