রাজশাহীতে বন্দুক কেড়ে নিয়ে দুই পুলিশকে পেটাল শিবির কর্মীরা

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:৪১

রাজশাহীতে আবারো গাড়িতে হামলা চালিয়ে বন্দুক কেড়ে নিয়ে পুলিশের চার সদস্যকে ইট দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছে শিবিরের ক্যাডাররা। গতকাল মঙ্গলবার হরতাল ও অবরোধ চলাকালে নগরীর সপুরার আলিফ লাম মিম ভাটার সামনের রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের উপর এই নৃশংসতা ঘটে। এর আগে ২০১২ সালের ৬ নভেম্বর নগরীর সাহেব বাজারে দুই কনস্টেবলকে এবং ১ এপ্রিল শালবাগান এলাকায় একইভাবে পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর আলমকে ইট দিয়ে মাথা থেতলে দিয়েছিল শিবির ক্যাডাররা।

গতকালের হামলায় আহত পুলিশের সদস্যরা হলেন নগরীর শাহ্ মখদুম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর হোসেন, কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন ও জামাল উদ্দিন। তাদের মধ্যে কনস্টেবল শফিকুল ও আমজাদের অবস্থা গুরুতর। তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর ও জামাল উদ্দিনকে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার  দিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের সপুরা এলাকায় আলিফ লাম মিম ইটভাটার পাশে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এ খবর পেয়ে নগরীর শাহ্ মখদুম থানার একটি টহল পুলিশভ্যান সেদিকে যাচ্ছিল। শিবিরের অবরোধ দেখে পুলিশ গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তার আগেই ছাত্রশিবিরের একদল ক্যাডার পুলিশ ভ্যানটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ও ভাংচুর শুরু করে। এ সময় কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেন গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে শিবির ক্যাডাররা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা শফিকুল ইসলামের বন্দুক কেড়ে নিয়ে তাকে পিটিয়ে রাস্তার ধারে ফেলে দেয়। একইভাবে তারা আমজাদ হোসেনকেও পেটায়। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি টহল দল খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিবির ক্যাডারদের ধাওয়া করে।  পালিয়ে যাবার সময় কিছু দূরে শিবির ক্যাডাররা পুলিশের নিকট থেকে কেড়ে নেয়া বন্দুক ফেলে দিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা কনস্টেবল শফিকুলকে যখন উদ্ধার করেন, তখন তার মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছিল।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম জানান, ‘ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা রাস্তায় পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে অবরোধ করছে মর্মে খবর পেয়ে পুলিশের ওই টহল ভ্যানটি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করে। এসময় শিবির ক্যাডাররা পুলিশ ভ্যানে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে দুই কনস্টেবল আহত হন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, আহতরা আশঙ্কামুক্ত। তাদের জরুরি চিকিত্সা চলছে। হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।