ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ছিল গাজীপুর

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৯

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ স্থানে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ৪ দশমিক ১ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ছিল গাজীপুরে। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে তাত্ক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

আবহাওয়াবিদ মমিনুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ছিল ঢাকার আগারগাঁও আবহাওয়া অধিদফতর থেকে ৩৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে গাজীপুর-নরসিংদী এলাকায়। ভূমিকম্পের সময় রাজধানীর উঁচু ভবনগুলোতে অবস্থানকারীরা দুলুনিটা অনুভব করেছেন। এর স্থায়িত্ব ছিল দুই সেকেন্ড। আবহাওয়া বিভাগের অন্য এক কর্মকর্তা জানান, এটি ছিল স্বল্পমাত্রার একটি ভূমিকম্প। এ ধরণের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে সাধারণত উত্স স্থলের গভীরতা মাপা হয় না।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের হিসেবে অনুযায়ী, গত এক বছরে ভূমিকম্পের মাত্রা বেড়ে গেছে। বাংলাদেশে গত ১০ দিনের মধ্যে তিন দফা ভূমিকম্প হলো। গত ২০ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল ৮টা ২৯ মিনিটে ভারতের আসামসহ বাংলাদেশের রাঙামাটিতে কম্পন অনুভূত হয়। এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনীসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। গত এক বছরে যে কয়টি ভূমিকম্প হয়েছে সেগুলোর উত্পত্তিস্থল ঢাকা থেকে সাড়ে ৮০০ কিলোমিটারের মধ্যে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় দেখা গেছে এখন ঘনঘন ভূমিকম্প হচ্ছে। ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডে দেশকে ভূমিকম্প ঝুঁকিতে ৮টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকা। ঢাকা হচ্ছে দ্বিতীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। আর তৃতীয় ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা হচ্ছে খুলনা, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চল। বাংলাদেশের ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও রাজধানী ঢাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ভূমিকম্প আমাদের দরজায় আঘাত হানতে শুরু করেছে।