রাতে রাজপথে নাশকতা

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:৩০

অবরোধ-হরতালের নামে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সহিংসতা চলছেই। প্রায় প্রতিদিনই নিহত হচ্ছে নিরীহ মানুষ। সড়ক-মহাসড়কে দিনের বেলায় অবরোধকারীদের তেমন একটা দেখা না মিললেও রাতের বেলা ভয়ংকর হয়ে ওঠছে তারা। পণ্যবাহী ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর চালাচ্ছে তারা। 

গতকাল মঙ্গলবার অবরোধের অষ্টম দিন অতিবাহিত হয়। গত সোমবার রাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩০টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর সঙ্গে চলে বোমাবাজি। দিনের বেলায় সড়ক-মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পুলিশ-র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দেখা গেলেও রাতে টহল তেমন একটা চোখে পড়ে না। এ সুযোগে অবরোধকারীরা রাতে নাশকতা করছে। বিভিন্নস্থানে সহিংস ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ চালক ও যাত্রীসহ ১৮ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে বাস হেলপার মুরাদ মারা যায়। সাত জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। দশজন বর্তমানে চিকিত্সাধীন।
ভুক্তভোগী ও অবরোধকারীদের আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিত্সাধীন ব্যক্তিরা বলছেন, রাতের রাজপথ ভয়ংকর। তাদের মতে, র্যাব পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিনের বেলার মতো রাতেও তত্পর হলে নাশকতার ঘটনা কমে আসবে।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, নাশকতা নিয়ন্ত্রণ যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া দরকার তা নেয়া হচ্ছে। বোমাবাজি ও যানবাহনে আগুন দিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, অপেক্ষা করুন, দেখুন সন্ধ্যার পরের পরিবেশ কি হয়।
গত সোমবার রাতে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, কুমিল্লা, সিলেট, হবিগঞ্জ, যশোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাইবান্ধা, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলা শহরে পণ্যবাহী কিংবা যাত্রীবাহী ৩০টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। গাইবান্ধায় বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঐসময় বাস থেকে লাফিয়ে পরে এক যাত্রী। বিপরীত দিক থেকে আগত ট্রাক চাপায় সে নিহত হয়। একই সময় রাজধানীতে ৯টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
গতকাল সন্ধ্যার পর উত্তরা হাউজ বিল্ডিংয়ের কাছে যাত্রীবাহী বাসে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। গুলশান-২ নম্বরে ৪টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। ঐ এলাকায় এর কিছুক্ষণ পর বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা তার গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। মতিঝিল জনতা ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সামনে ৮/১০ বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে বিকল্প পরিবহনের একটি বাসে ও মতিঝিল সিটি সেন্টারের সামনে একটি ট্যাক্সি ক্যাবে আগুন ধরিয়ে দেয় অবরোধকারীরা।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, যারা বাসে কিংবা যানবাহনে আগুন দিচ্ছে তারা ভাসমান শিশু (টোকাই)। তাদের হাতে সামান্য কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে এ ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে।
মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নাশকতা করার কোন সুযোগ দেয়া হবে না।
হাইওয়েতে বিজিবি মোতায়েন
ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-যশোর ও খুলনা হাইওয়েতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী ক্যাম্প। র্যাব পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি হাইওয়েতে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন নিরাপদে চলাচলের দায়িত্ব পালন শুরু করেছে।
পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক বলেন, রাজধানীসহ দেশব্যাপী সন্ধ্যার পর নাশকতা রোধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অবরোধকারীরা যাতে নাশকতা করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নাশকতা করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজশাহীতে রাতের রাজপথ
রাজশাহী অফিস জানায়, সূর্যাস্তের পরই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে রাজশাহীর রাজপথ। দিনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতায় সুবিধা করতে না পারলেও রাতের অন্ধকারে নাশকতায় মেতে উঠছে অবরোধ সমর্থকরা। আগুনে পোড়ানো হচ্ছে গাড়ি, মানুষের দোকানঘর। টানা অবরোধে রাজশাহীতে যেসব গাড়ি পোড়ানো হয়েছে, তার বেশিরভাগই রাতের আঁধারে পোড়ানো হয়েছে। 
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় রাজশাহী জেলা মহানগরীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩২ বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে সোমবার রাতে জামায়াত-শিবিরের আস্তানা বলে পরিচিত খড়খড়ি বাইপাস এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩২টি তাজা ককটেল ও ১০টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে র্যাব।

পুলিশ জানায়, রবিবার রাতে খড়খড়ি বাইপাস সড়কে একটি কীটনাশকবাহী গাড়ি পুড়িয়েছে অবরোধকারীরা। একই রাতে পুঠিয়ার শিবপুরে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে অবরোধ সমর্থকরা একটি পণ্য বোঝাই ট্রাকে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অবরোধ সমর্থকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ৮ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে অবরোধ সমর্থকরা পালিয়ে যায়। দুটি মার্কেটের পাঁচটি দোকানে রবিবার রাতে দুর্বৃত্তরা আগুন দিলে ২০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়েছে।