রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন আরো ১২ জন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার বাতাসন নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। অগ্নিদগ্ধদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধের মধ্যে সেনা সদস্য নুর আলমের স্ত্রী ও কন্যাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইস) পাঠানো হয়েছে।
আহতদের মধ্যে নুরজাহান, জরিনা, তফিরন বেওয়া, ফারজানা, রাশেদা, মিনারা, আলামিন, আনোয়ার ও শামীমের নাম জানা গেছে। তাদের বয়স ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছেন ঐ বাসের যাত্রী আফসানা মিমি।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের চিকিৎসক আব্দুর রজ্জাক জানান, দগ্ধদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর। এদের অনেকের শরীরের ৬০ ভাগ পুড়ে গেছে। এছাড়া দুজনের শ্বাসনালী পড়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ১ টার দিকে উলিপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি যাত্রবাহী বাস উপজেলার জায়গীর হাটের কাছে বাতাসন এলাকায় পৌঁছলে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে দুর্বৃত্তরা। বাসটি সিএনজি চালিত হওয়ায় পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গেই পুরো গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এ সময় দরজা বন্ধ ধাকায় ভেঙ্গে বের হয়েছেন অনেকেই।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জামায়াত শিবিরের ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে এখন পর্যন্ত যোগাযোগ না হওয়ায় নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। নিহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে এ ঘটনায় উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে থানা পুলিশ।
