চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মতিউর(২৬) নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। এসময় বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের দাবি করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কানসাটে এই ঘটনা ঘটে। মতিউর উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের বাজিতপুর গুহিপাড়া গ্রামের মন্টু আলীর ছেলে। এদিকে এই ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে রবিবার সকাল ছয়টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি।
র্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোম্পানি কমান্ডার মেজর কামরুজ্জামান পাভেল জানান, বৃহস্পতিবার শিবগঞ্জে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় শ্যামপুর নারী কল্যাণ স্কুলের নিকট থেকে হযরত(১৮), শ্যামল(১৮) ও মতিউরকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা উপজেলার কানসাটসহ বিভিন্ন এলাকায় যৌথবাহিনীর সাথে সংঘর্ষ, ট্রাকে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাদেরকে নিয়ে কানসাট বাজার এলাকায় গেলে সেখানে মতিউরের সহযোগীরা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুি ছোড়ে। র্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় মতিউর পালানোর চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের গোলাগোলির মধ্যে পড়ে সে মারা যায়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি রিভালবার, দুইটি এলজি বন্দুক, দুইটি সুটারগান, পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগজিন, ১৭টি ককটেল, ১০টি পেট্রোল বোমা ও পাঁচ বিভিন্ন ধরণের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফারুক কুইজ জানান, মতিউর শ্যামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিল।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক মোঃ শাহজাহান মিঞা বলেন, মতিউর রহমানকে আইনশৃংখলা বাহিনী আটক করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার সাজানো নাটক। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ২০ দলের সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা জানান, শ্যামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মতিউর রহমানকে র্যাব ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার যৌথবাহিনী অভিযানের নামে কানসাট ও শিবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় যে বাড়িঘরে ভাংচুর চালানো হয়, তারই প্রতিবাদে ২০ দলের পক্ষ থেকে ৩৬ ঘণ্টার হরতাল আহ্বান করা হয়েছে।
