‘মুই আজনীতি বোঝং না, মুই বিচার চাং’

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:৩৯

‘মোর বেটিক যাই মারছে, আল্লাহ যেন তাকও এইভাবে মারে। মোর বেটির কি দোষ আছিল, ওরা ক্যানে মোর বেটিক মারিল। মুই আজনীতি বোঝং না, আজনীতি করংনা, মুই বিচার চাং...।’ মেয়ের লাশ বাড়িতে পৌঁছার পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই আহাজারি করছিলেন নিহত জেসমিনের মা শেফালি বেগম।

৫ম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী ছিল জেসমিন। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করবে। কিন্তু সে স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বিরোধী দলের লাগাতার অবরোধে গত মঙ্গলবার মিঠাপুকুরের বাতাসন এলাকায় ঢাকাগামী নাইটকোচে নিক্ষিপ্ত পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে বাসের ভিতরেই তার জীবন প্রদীপ নিভে যায়। ঘটনার ৪ দিন পর গত শনিবার সন্ধ্যায় তার লাশ পুলিশ পাহারায় গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণী ইউপি’র পশ্চিম দড়িচর গ্রামে এসে পৌঁছে। এ সময় সেখানে এক হূদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এলাকার শত শত মানুষ জেসমিনের মৃতদেহ দেখার জন্য ভিড় জমালেও অঙ্গার হওয়া লাশ কাউকেই দেখানো সম্ভব হয়নি।
সন্তানহারা পিতা আব্দুল জব্বার মেয়েকে হারিয়ে যেন শোকে পাথর হয়ে গেছেন। বাকরুদ্ধ হয়ে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে দেখছিলেন। আর থেকে থেকে হাউ-মাউ করে কেঁদে উঠছিলেন। এ সময় জেসমিনের দাদা মুক্তিযোদ্ধা কয়জল হক, জ্যাঠা হযরত, পনির ও খালেক নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে বিচারের দাবি জানান।  রাত ৯ টার দিকে গ্রামের কবরস্থানে জেসমিনের দাফন সম্পন্ন হয়।  

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের রিকশাচালক আব্দুল জব্বারের ছোট মেয়ে জেসমিন তবকপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। কিছুদিন আগে জব্বার ২ শতাংশের বসতভিটা বড় ভাই খালেকের কাছে বিক্রি করে বড় মেয়ে জবার বিয়ে দিয়ে সপরিবারে জীবিকার তাগিদে ঢাকা যান। সেখানে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন। প্রায় ১ বছর আগে জেসমিন বাবা-মার কাছ থেকে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে গ্রামের বাড়িতে জ্যাঠাদের কাছে ফিরে আসে। সদা হাসিমুখ জেসমিন বিদ্যালয়ে নাচ-গান করে সহপাঠিদের মাতিয়ে রাখতো। এজন্য শিক্ষক-সহপাঠি সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠে সে। বাবা-মায়ের সাথে দেখা করার জন্য ঐ দিন পাশের বিজয়রাম তবকপুর গ্রামের বাদাম বিক্রেতা রহিম বাদশা ও তার মা রহিমার সাথে ঢাকায় যাচ্ছিল। পথে মর্মান্তিক ওই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৩ জনেরই মৃত্যু ঘটে।