রাজধানীর কলাবাগান ও যাত্রাবাড়ী থেকে বাঘ ও হরিনের চামড়া বেচাকেনার অভিযোগে পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছে র্যাব-১০ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আলম প্রধান (৪৫), আবুল কাহার জনি (২৪), মোঃ রুবেল (৩০), সবুজ সরকার বিমল (২৮) ও মোস্তাফিজুর রহমান (৩৫)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র্যাবের নির্বাহি হাকিম এএইচএম আনোয়ার পাশা। এসময় বনবিভাগের প্রতিনিধি পরিদর্শক সোহের রানা উপস্থিত ছিলেন।
গত রবিবার রাতে এ অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার করা চমড়াগুলি বনবিভাগকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা জানান, রবিবার রাত ৯টার দিকে কলাবাগানের ২য় লেনের ১০২ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি বাঘের (রয়েল বেঙ্গল টাইগার) চামড়া বেচা-কেনার সময় তিনজনকে হাতনাতে ধরে তাত্ক্ষণিকভাবে দণ্ড প্রদান করা হয়। উদ্ধার করা ৭ ফুট দৈর্ঘ ও ৩ ফুট প্রস্তের বাঘের চামড়াটি প্রাপ্ত বয়স্ক বাঘের চামড়া। চামড়াটিতে ৩টি গুলির চিহ্ন রয়েছে।
বনবিভাগের প্রতিনিধি সোহেল রানা ধারণা করছেন, গত এক বছরের মধ্যে বাঘটিকে হত্যা করা হয়েছে ও চামড়াটি স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে।
আটককৃত আলম ও জনি জানায়, ১৫ দিন আগে উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের কাদেরের কাছ থেকে তারা চামড়াটি এনেছে। কাদের চামড়াটি নিয়ে এলে জনি ও আলম তাকে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে মাত্র ২০ হাজার টাকায় চামড়াটি কিনে নেয়।
রবিবার সকালেই চামড়াটি ৬ লাখ টাকায় বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু জনি ৮/৯ লাখ টাকার কমে বিক্রি করতে না চাইলে বিভিন্ন ধনী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন রুবেল। আটককৃত আলম প্রধান ও আবুল কাহার জনিকে ১ বছরের কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও রুবেলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে করে ভ্রাম্যমানণ আদালত।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, জাকির নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তারা কম দামে চামড়াগুলো কিনে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। জাকির চামড়াগুলি ভোলা থেকে নিয়ে এসেছে ও জাকিরের কাছে বেশকিছু চামড়া আছে বলেও তারা শুনেছে। কালাম নামে একজনের কাছে প্রতিটি চামড়া মাত্র ২০ হাজার টাকা করে বিক্রি করতে এসেছিলেন তারা। এ ঘটনায় মোস্তাফিজ ও সবুজকে ২ মাসের কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত।
