র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, দেশে বর্তমানে একটি বিশেষ ক্রান্তিকাল চলছে। আমাদের নিরীহ মানুষজনকে বিনা কারণে অত্যন্ত নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে। ব্যক্তির সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এ থেকে মুক্তি চায়। যেসব গোষ্ঠী বা মহল জনগণের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ পরিচালনা করছে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তাদের আমরা স্তব্ধ করে দিতে চাই। এই সমস্ত অপশক্তির কাছ থেকে চিরস্থায়ীভাবে মুক্তি পেতে আমাদের সার্বিক পর্যায়ের সমন্বয় এবং বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন। প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ হলে খুন, সন্ত্রাস ও ধ্বংস থেকে আমরা দেশবাসীকে রক্ষা করতে পারবো।
গতকাল নগরীর পতেঙ্গায় র্যাব ৭ সদর দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে র্যাব মহাপরিচালক এসব কথা বলেন। এসময় সিএমপি কমিশনার মো. আবদুল জলিল মণ্ডল, র্যাব ৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উপস্থিত ছিলেন।
মহাসড়কে নাশকতা প্রসঙ্গে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ২০১৩ সালে সীতাকুণ্ডের অভিজ্ঞতার কথা আমাদের মনে আছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে যাতে কোনো ধরনের অপশক্তি বা সন্ত্রাসী চক্র মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সে বিষয়ে আমাদের নজরদারি রয়েছে। প্রতিদিন আমরা হাজার হাজার গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছি। বন্দরের সঙ্গে ঢাকার কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সচল রাখার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে সমস্ত দেশেই যাতে মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে, পণ্য পরিবহন চলতে পারে সেজন্য আমরা সচেতন রয়েছি। একজন গ্রামের কৃষকও যদি পণ্য পরিবহনে আমাদের সহায়তা চায় দরকার হলে আমাদের নিজস্ব গাড়ি দিয়ে তাকে সহযোগিতা দেবো। আমরা পণ্য পরিবহনে সহযোগিতা আরো বেগবান করবো।
রংপুরে তার দেয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিএনপির প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, আমরা কোনো রাজনীতিবিদ বা রাজনীতির বিরুদ্ধে কোনো কথা বলিনি। আমরা কথা বলেছি খুনী, সন্ত্রাসী ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বললে রাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলা হয় না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে এই ধরনের খুন ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে মানুষকে শান্তি, প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা দেয়া আমাদের পবিত্র কর্তব্য এবং দায়িত্ব। সেটা আমরা করছি। ভবিষ্যতেও করবো।
এর আগে র্যাব ৭ সদর দফতরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ, সিএমপি কমিশনার মো. আবদুল জলিল মণ্ডল, জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার, র্যাব ৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।