উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়া অব্যাহত থাকায় গত তিন দিনে গাইবান্ধায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মত ঝরেছে কুয়াশা। গত তিন দিন সূর্যের দেখা মিলেনি। বিকালেই জনশূন্য হয়ে পড়ছে রাস্তাঘাট।
গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালের বহিঃ বিভাগে শীত জনিত রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। এখন হাসপাতালটিতে কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৯ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এছাড়া গত এক সপ্তাহে ২ জন শিশু শীত জনিত রোগে মারা গেছে।
গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আবু হানিফ জানান, শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সর্বত্র শীত জনিত রোগ ও শিশুদের কোল্ড ডাইরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। মঙ্গলবার কোল্ড ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৭টি শিশু।
শীতের কবল থেকে বাঁচতে শুধু গ্রামাঞ্চলেই নয়, শহরেও শ্রমজীবী মানুষেরা খড়কুটো জ্বালিয়ে গা গরম রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেই অন্ধকার নেমে আসায় হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল মিয়া জানান, ঘন কুয়াশার কারণে নৌ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। রাতের বেলা তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নৌ রুটে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দিনের বেলাতেই নৌপথে সতর্কতার সাথে নৌযান চলাচল করছে। ফলে জেলার সাতটি উপজেলার ১শ’ ২০টি চরের মানুষ যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাক জানান, তীব্র ঠাণ্ডায় কৃষি শ্রমিকেরা কাজ করতে না পারায় বোরো চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৭১০টি কম্বল, ১ হাজার চাদর, ২ হাজার ২৫০ সোয়েটার ও ৬৫০টি মাফলার বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. এহছানে এলাহি জানিয়েছেন, শীতার্ত দুঃস্থদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত কম্বল, সোয়েটার, মাফলার ও গায়ের চাদর বিতরণ অব্যাহত আছে।
