শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত আরো ৪ জনের মৃত্যু

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৫, ০১:৫৭

দেশের বিভিন্ন স্থানে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার শীতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর আমাদের স্টাফ রিপোর্টার, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)ঃ গত দু’দিনের তীব্র শীতে চা বাগান ও বনাঞ্চল অধ্যুষিত কমলগঞ্জ উপজেলার চা শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। মঙ্গলবার শীতে এখানে চারজনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এছাড়া গত কয়েকদিনে উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চা বাগান ও বস্তির লোকদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চা বাগানের শ্রমিক, ইউপি সদস্য ও চিকিত্সকের সাথে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত দু’দিন ধরে কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। কনকনে বাতাস ও ঘন কুয়াশায় চা শ্রমিক, কৃষক ও দিনমজুররা গরম কাপড়ের অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। মৃত্তিঙ্গা চা বাগানের ইউপি সদস্য ধনা বাউরী জানান, মৃত্তিঙ্গা বাগানের অমৃত তাঁতী (৪৫) অসুস্থতার সাথে সাথে প্রচণ্ড শীতের কারণে মঙ্গলবার বিকালে মারা যান। মদনমোহনপুর চা বাগান এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য সাবিদ আলী বলেন, শীত বেড়ে যাওয়ায় একই দিন শারীরিকভাবে দুর্বল মদনমোহনপুর চা বাগানের জোসেফ গমেজ (৫০) ও বুন্দা বুনার্জি (৪৮) মারা যান। সুনছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, অসুস্থ চুনুয়া কর্মকার (৫০) প্রচণ্ড ঠান্ডায় মঙ্গলবার গভীর রাতে মারা গেছেন। দিবা শুক্ল বৈদ্য, রাজদেও কৈরী, সুনীলসহ শমশেরনগর, দেওছড়া ও আলীনগর চা বাগানের শ্রমিকরা বলেন, দরিদ্র চা শ্রমিকরা দৈনিক যে মজুরি পান তা দিয়ে তিন বেলা খাবার সংকুলান করা যায় না। তার উপরে গরম কাপড় কেনা সম্ভব হয়ে উঠে না। তীব্র শীতে বুড়ো লোকদের বেশি কষ্ট হচ্ছে। শিশুরা সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে কিছু কম্বল বিতরণ করা হলেও সেটি শীত নিবারণে পর্যাপ্ত নয় বলে তারা দাবি করেন। হাসপাতাল ও চিকিত্সা কেন্দ্রসমূহে রোগীর চাপ বেড়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী শীতে রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে বলেন, উপজেলায় ঠান্ডায় মৃত্যুর কোন সংবাদ নেই। তবে গত দু’দিনে হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ঃ তীব্র শৈত্য প্রবাহে দিনাজপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কনকনে শীতে কাবু হয়েছে এখানকার মানুষ। গত ৩ দিন ধরে দিনাজপুরে শৈত্য প্রবাহে এখানকার জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, গতকাল দিনাজপুরের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই ছিল এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। শীতে বেশি কষ্টে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা। দিনমজুররা কাজে যেতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রাস্তাঘাটে লোক চলাচলও কমে গেছে। শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে দিনাজপুর বিজিবি, জেলা দোকান মালিক সমিতি, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন সংগঠন।
ঠাকুরগাঁওঃ তীব্র শীত আর হিমেল হাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্মে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তীব্র শীতের কারণে সন্ধ্যার পর হাটবাজার জনশূন্য হয়ে পড়ছে। শীতবস্ত্রের অভাবে বাস্তুহারা ও খেটে খাওয়া মানুষ তীব্র দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ঠান্ডার কারণে জেলার সর্বত্র সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে লোকজন। মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ে বেলা ১১টা পর সূর্যের মুখ দেখা গেলেও হিমেল হাওয়া অব্যাহত থাকায় শীতের তীব্রতা কমেনি। বুধবার সকাল থেকেই ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া বইতে থাকায় দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠে। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৫০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আবু মো: খায়রুল কবির বলেন, হঠাত্ ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের প্রকোপ দেখা দেয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) ঃ কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কয়েকদিন ধরে শৈত্য প্রবাহ, থেমে থেমে বৃষ্টি আর ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত সোমবার থেকে থেমে বৃষ্টি এবং সেই সাথে হিমেল ও ঠান্ডা বাতাস বয়ে চলায় শীতের মাত্রা বেড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে।