মেহজাবীন মুমু লোক নাট্যদলের একজন সক্রিয় সদস্য। ভালোবাসা থেকেই এসেছেন মঞ্চে। শুধু মঞ্চ নিয়েই তার ভাবনা। লোক নাট্যদলের নিয়মিত প্রযোজনা ‘কঞ্জুস’, ‘মুজিব মানে মুক্তি’ নাটকে অভিনয় করছেন। দলের প্রধানতম ব্যক্তি লিয়াকত আলীর কাছে তার থিয়েটারের হাতেখড়ি। দলের বাইরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর প্রযোজনা, সৈয়দ শামসুল হকের অনুবাদ এবং মঞ্চ সারথি আতাউর রহমানের নির্দেশিত উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘হ্যামলেট’ নাটকে অভিনয় করছেন। মেহজাবীন মুমুর সঙ্গে কথা বলেছেন মাহবুব আলম
থিয়েটারে আসা কেন ও কিভাবে?
২০১৪ সালে লোক নাট্যদলে একটি কর্মশালার মাধ্যমে দলে কাজ করার সুযোগ হয়। সেই থেকে নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। খুব কাছের একজন মানুষকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং তারই প্রেরণায় থিয়েটারে আসা। এই প্রসঙ্গে তার নামটি না বললেই নয়, তিনি থিয়েটার অঙ্গনের পরিচিত মুখ, লোক নাট্যদলের একজন নিয়মিত সদস্য মাস্উদ সুমন। আমার থিয়েটার জীবনের শুরু তারই হাত ধরে। তাকে দেখেই মনে হয়েছিল, হয়তো এই জগতটা আমারও।
একজন অভিনেতা হিসেবে পাণ্ডুলিপির কোন বিষয়টি আপনাকে চরিত্র নির্মাণে সহায়তা করে?
প্রথমত সেটা নির্ভর করে গল্পটার বিষয়বস্তুর ওপর। আর দ্বিতীয়টি হলো গল্পটি কিভাবে নাট্যকার উপস্থাপন করেছে তার ওপর। তবে বিষয়বস্তু প্রধানতর বিষয় বলে আমার মনে হয়। বিষয়বস্তু যদি ঐতিহাসিক হয় তাহলে একভাবে ভাবতে হয়, বিষয়টি যদি কমেডি হয় তাহলে অন্যভাবে ভাবতে হয়। আবার বিষয়টি যদি প্রেমের হয় তাহলে আবার সম্পূর্ণ আরেকভাবে ভাবতে হয়। তবে চরিত্র নির্মাণে পাণ্ডুলিপির উপস্থাপন অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং মূলত নাট্যকারের সেই বিষয়টি অভিনেতাকে চরিত্র নির্মাণে সব থেকে বেশি সহায়তা করে।
নির্দেশকের কাছ থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা বেশি প্রয়োজন হয়?
থিয়েটার জীবনে খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমি কয়েকজন নির্দেশকের সঙ্গে কাজ করেছি। যার মধ্যে বাংলাদেশের দুজন বরেণ্য নির্দেশকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। একজন হলেন লোক নাট্যদলের অধিকর্তা ও নির্দেশক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী, আর অন্যজন হলেন বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব মঞ্চসারথি আতাউর রহমান। আমার মনে হয় একজন নির্দেশক নাটকের ডিজাইনটা যেভাবে ভাবেন বা তিনি নাটকটি নির্মাণের ক্ষেত্রে যে পরিকল্পনা করেন, তার সেই নির্মাণের প্রধান বাহন হলেন অভিনেতা। আর অভিনেতারা, তার চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সেই কাজটিই করেন, যেটা নির্দেশক পরিকল্পনা করেন। সুতরাং চরিত্রায়নের বিষয়টিই মূলত নির্দেশকের কাছ থেকে প্রধানভাবে সহযোগিতা নিতে হয়। তবে অভিনেতা হিসেবে ওই চরিত্রটি কত চমত্কারভাবে উপস্থাপন করা যায়, সেটা পুরোপুরিভাবেই অভিনেতাকেই করতে হয়। এছাড়া নির্দেশকের সঙ্গে অভিনেতার সম্পর্কটি হওয়া উচিত খুবই বন্ধুত্বসুলভ, সেটি একজন অভিনেতার জন্য তার চরিত্র নির্মাণে খুবই সহয়তা করে।
একক অভিনয়ের ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?
বিশ্বজুড়ে একক অভিনয়ের নাটক অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি আমাদের দেশেও এখন অনেক একক অভিনয়ের নাটক হচ্ছে। একক নাটক বিষয়টি আসলে আমার কাছে খুবই কঠিন ও জটিল বলে মনে হয়। পুরো নাটকটি একজন অভিনেতার ওপর নির্ভর করে এবং মঞ্চে সে সম্পূর্ণ একা। নির্দেশক, দর্শক সবার চোখ শুধু তারই দিকে। নিজের কো-আর্টিস্ট সে নিজেই। সেক্ষেত্রে অভিনেতাকে অবশ্যই অনেক দক্ষ হতে হবে। তবে হ্যাঁ, যখন নিজেকে সেই জায়গায় নিতে পারব, সেইদিন অবশ্যই নিজেকে ধন্য মনে করব।
থিয়েটার নিয়ে আপনার ভবিষ্যত্ ভাবনা কী?
থিয়েটারে ভবিষ্যত্ নিয়ে তেমন কোনো ভাবনা আপাতত আলাদাভাবে নেই। তবে হ্যাঁ, অনেক কাজ করতে চাই, ভালো কাজ করতে চাই। অভিনয়ের পাশাপাশি মঞ্চের পিছনেও যেমন :পোশাক, আলো, সেট নিয়ে কাজ করার অনেক বেশি আগ্রহ রয়েছে। আমার দল ‘লোক নাট্যদল’-এর নতুন প্রযোজনা বুদ্ধদেব বসুর গল্প অবলম্বনে নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকীর নির্দেশনায় নাটক ‘আমরা তিনজন’-এ পোশাক পরিকল্পনা করার চেষ্টা করছি। দেখা যাক কি হয়! যাই হোক, ভালোলাগার জায়গা থিয়েটার, ভালোবাসার জায়গা আমার দল ‘লোক নাট্যদল’ ও দলের মানুষগুলো। তাদেরকে নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই এবং বাংলাদেশের থিয়েটারের জন্য কিছু করতে চাই।
