ভালুকার খিরু নদীর বুক জুড়ে শুধু ফসলের মাঠ

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৪১

ভালুকা উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খিরু নদীটি এখন ফসলের মাঠে রূপ নিয়েছে। নদীর দু’পাড়ের বেশিরভাগ জমি অবৈধ দখলদার ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে তাতে বোরো আবাদ শুরু হয়েছে। তা ছাড়াও বিভিন্ন শিল্প কারখানার দূষিত বর্জ্যে নদীর পানিতে প্রবাহিত হওয়ায় পরিবেশে ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হচ্ছে। নদীর নাব্যতা হ্রাস পেয়ে বর্ষাকালে উজানের পানি নামতে দেরি হওয়ায় প্রায়ই কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়ে ফসল ও মত্স্য খামারের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হচ্ছে। এলাকাবাসী খিরু নদী রক্ষায়, কারখানার বর্জ্য প্রবাহ বন্ধসহ, নদীর দু’পাড়ের অবৈধ দখলদার মুক্ত করে ভরাট হওয়া নদী পুনঃখননের মাধ্যমে পূর্বের রূপে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় এমপির নিকট আবেদন জানিয়েছে।

খিরু নদীটি ভালুকা হতে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ত্রিমোহনী শীতলক্ষ্যা পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার লম্বা। এক সময় মুক্তাগাছার জমিদাররা ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে বজরা বহর নিয়ে ভালুকার সিলমা কাচারিতে আসা-যাওয়া করতেন। এ নদী হতে কৃষকরা পাওয়ার পাম্প দিয়ে দিন-রাত বোরো ক্ষেতে পানি সেচ দিতেন। শুকনা মৌসুমে নদী পাড়ের মানুষ নিজেরা গোসল করাসহ গৃহস্থালির কাজ-কর্ম করতেন। এখন নদী আছে পানি নেই, পাল তোলা নৌকা নেই, লঞ্চের ভেঁপুর শব্দ নেই, বেপারীদের পাল তোলা নৌকা নেই, বেদে নৌকার লম্বা বহর নেই, মাঝিদের দাঁড় টানার ছলাত্ ছলাত্ শব্দ নেই। মানুষ ও প্রকৃতির নির্মমতা ভালুকার খিরু নদীর যৌবন কেড়ে নিয়েছে। স্বচ্ছ সাদা নির্মল খিরুর বুকে এখন শুধুই শিল্প কারখানার দূষিত বর্জ্যের কালো পানি। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা অসংখ্য শিল্প কারখানার দূষিত কালো বর্জ্য পানি দিন-রাত খিরুর বুক বেয়ে চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল জানান, অচিরেই নদীটি অবৈধ দখলদার মুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।