হত্যার পর বাসা থেকে ৩৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০২:০০

সাংবাদিক কন্যা ফাহমিদা আক্তারের (বীথুন) হত্যাকাণ্ডের পর ঐ বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ খোয়া গেছে। এই স্বর্ণের জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অপরদিকে নিহতের সঙ্গে কারো খুব বেশি ঘনিষ্ঠতা ছিল কিনা সেটাও খতিয়ে দেখেছে তদন্ত টিম। ঐ  মোবাইল ফোনের কল লিস্ট থেকে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যানি। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঘাতকরা নিহতের পরিচিতজন। ঐ বাসায় ঘাতকদের যাতায়াত ছিল। তারা পরিকল্পিতভাবেই তাকে হত্যা করেছে। হত্যার পর বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার লুট করেছে। তবে ঘাতক নিশ্চিত না হওয়ায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর রামপুরা মহানগর প্রজেক্টের ৫ নম্বর রোডের ১০৫ নম্বর বাড়ির ৫ম তলা থেকে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও ইত্তেফাকের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আখতার-উল-আলমের মেয়ে ফাহমিদা আক্তার বীথুনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐদিনই নিহতের বড়ভাই রিজওয়ান-উল-আলম বাদী হয়ে রামপুরা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিহত ফাহমিদার পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে জানা গেছে তার কাছে ৩০ থেকে ৩৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল। ঘাতকরা তাকে হত্যা করে ঐ স্বর্ণালঙ্কার লুট করেছে। হত্যার ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে এটি পূর্বপরিকল্পিত। আর হত্যায় একাধিক লোক অংশগ্রহণ করেছে। তাকে হাত-পা বেঁধে গলায় গামছা ও ওড়না পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতের মুখে মরিচের গুঁড়ার আলামত পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের আলামত এবং ঐ বাসা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, হত্যাকারী বাসায় প্রবেশ করা এবং বাসা থেকে বের হতে কোন ধরনের বাধার মুখে পড়েনি। অর্থাত্ বাসায় প্রবেশ করার ক্ষেত্রে বাসার ভিতর থেকে দরজা খুলে দেয়া হয়েছে। সে কারণে ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকারীরা নিহত ফাহমিদার পূর্ব পরিচিত ছিল। হত্যাকাণ্ডের আগে হত্যাকারী ফাহমিদার সঙ্গে যোগাযোগ করেই ঐ বাসায় প্রবেশ করে। 

রামপুরা থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ঐ বাসার কাজের মহিলা সাবিহা বেগম এবং ঐ বাড়ির দারোয়ান আব্দুর রবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করা হয়েছে ঐ বাসায় তার কাছে কে কে আসতেন এবং তারা সাধারণত কোন সময় আসতেন। অপরদিকে হত্যাকাণ্ডের আগের ৪/৫ দিন ঐ বাসায় কে এসেছিলেন সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া নিহত ফাহমিদা পারিবারিক বিরোধ, প্রতিবেশির সঙ্গে বিরোধ এবং বাইরের কারো সঙ্গে কোন লেনদেন আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।