নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস পালন করল জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল। বুধবার সকালে ক্যান্সার সারভাইভারদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ‘ক্যান্সার: আমরাই পারি রুখতে’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘ক্যান্সার সম্পর্কে সাধারণ মানুষ সচেতন নয় বলেই তাদের মধ্যে ক্যান্সার নিয়ে ভীতি কাজ করে। এমনকি দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ক্যান্সার ভীতি কাজ করছে। এ ভীতি দূর করে সচেতন হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতকেই জোর দিচ্ছে। ক্যান্সারের উন্নত চিকিত্সার জন্য সরকার দ্রুত আধুনিত যন্ত্রপাতি আমদানি করছে। একই সঙ্গে দক্ষ জনবলও বাড়ানো হচ্ছে। ১৫০ শয্যা বিশিষ্ট জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে দ্রুতই আরো দেড় শ শয্যা যোগ হবে।’
জাহিদ মালেক বলেন, ‘ক্যান্সারের উন্নত চিকিত্সার জন্য প্রতিবছরই দেশের বাইরে প্রচুর পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অসচেতনার কারণেও অনেকে ক্যান্সারের চিকিত্সা নিতে দেশের বাইরে যান।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সনাল বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতের ওপর জোর দিয়েছে। কিন্তু দুর্বৃত্তায়নের কারণে অনেক কাজই যথাসময়ে সম্পন্ন হয় না।’
বিএমএর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘ব্যক্তি স্বার্থের জন্য প্রয়োজন না থাকার পরও যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়, আবার এমন সব যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয় যা অনেক সময় কাজে লাগে না।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, ‘রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা, ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াররফ হোসেন।
