প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সম্প্রতি একটি পরিপত্র জারি করেছে সমন্বয় বদলির জন্য। পরিপত্রে বলা আছে পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নব্য জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫০% শিক্ষক নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠানে সমন্বয় বদলি করতে হবে। কাজটি অনেক কঠিন হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ধারণা ২০১৩ সালে ২৬,০০০ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অপেক্ষাকৃত দুর্বল। কেননা নব্য জাতীয়-করণকৃত শিক্ষকরা কোনো পরীক্ষা ছাড়াই স্থানীয়ভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। যদিও ঢালাওভাবে দুর্বল বলা সমীচীন হবে না, তবু নব্য জাতীয়করণকৃত ৪০-৫০ ভাগ শিক্ষক ছিলেন এসএসসি পাস। তবে পরবর্তী সময়ে অনেকেই তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়িয়েছেন। এ কথা নিশ্চিত যে নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকও ছিলেন বা আছেন। বর্তমানে নব্য জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগ বা বদলির মাধ্যমে অনেক সমন্বয় হয়েছে। সমন্বয় করতে গিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে। কাজটি জটিল হবে। কেননা নির্দেশনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে গেছে তদবির। তবে কোনোভাবেই যেন কোনো শিক্ষক হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য সঠিক হিসেব কষে সমন্বয় বদলি করা উচিত।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে, সমন্বয় বদলি হলেই কি প্রাথমিকে শিক্ষার মান বাড়বে? অবশ্যই বাড়বে। কেননা এমনও বিদ্যালয় আছে যেখানে তিন থেকে চার জন শিক্ষক এসএসসি/এইচএসসি পাস। এখানে ৫০% বদলি করে স্নাতক পাস অভিজ্ঞ শিক্ষক আনা হলে বিদ্যালয়ের চেহারাই যাবে পাল্টে। সমন্বয় বদলি হলে সামগ্রিক ফলাফল ভালো হবে। সমন্বয়ের ব্যাপারে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন—সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মুন্নাফ হোসেন
সহকারী শিক্ষক,
মমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল
