শিশুর লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ, বিচার দাবি

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:১৩

রাজধানীর দক্ষিণখানে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে গতকাল উত্তরায় লাশ নিয়ে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা। এতে জনসাধারণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। দক্ষিণখান থানা এলাকার দক্ষিণ আজমপুরের আমির উদ্দিন সড়কের ৫৬/২ নম্বর বাড়ির পানির রিজার্ভ ট্যাংক থেকে সোমবার রাতে শিশু রিফাতের (৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার দুই দিন আগে থেকেই রিফাত নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় স্থানীয়রা বাড়ির মালিক অজিত কুমার বসাককে অভিযুক্ত করে তার বিচার দাবি করেন। তাকে গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল বেলা ১২টা থেকে লাশ নিয়ে উত্তরার আজমপুরে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। পরে পুলিশ বাড়ির মালিককে গ্রেফতার করার পর বিচারের আশ্বাস দিলে বিকাল ৫টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেয়। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে, এসময় পুলিশ অবরোধ তুলে নিতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল ছুঁড়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল বলেন, সোমবার রাতে দক্ষিণখান থানা এলাকার অজিত কুমার বসাকের বাড়ির পানির রিজার্ভ ট্যাংক থেকে শিশু রিফাতের লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে এ ব্যাপারে স্পষ্ট হওয়া যাবে। তবে এ ঘটনায় দক্ষিণখান থানায় মামলা হয়েছে।

এলাকাবাসী দাবি করেছেন, অজিতের বাড়ির পাশে টিনশেড বাসায় শিশু রিফাতের পরিবার ভাড়া থাকে। রিফাতের বাবা আব্দুর রশিদ পেশায় রাজমিস্ত্রি। শিশুটির মা ওই এলাকায় একটি পোশাক কারখানার কর্মী। রিফাত স্থানীয় উদয়ন স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শনিবার বিকালে রিফাত তার বন্ধুদের সাথে নিয়ে ঘুড়ি উড়ানোর এক পর্যায়ে নিখোঁজ হয়। এরপর আর শিশুটির খোঁজ মেলেনি। স্বজনরা অনেক জায়গায় খুঁজে তার সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করে। এক পর্যায়ে অজিত কুমারের বাসায় শিশুটির পায়ে থাকা স্যান্ডেল পাওয়া যায়। তখনই তাদের সন্দেহ হয়, ওই বাসায় শিশুটি থাকতে পারে; কিন্তু বাসার লোকজন কাউকে সেখানে ঢুকতে দেননি। এ ঘটনায় সোমবার স্বজনরা দক্ষিণখান থানায় জিডি করে। ওই রাতেই পুলিশ গিয়ে অজিত কুমারের বাসার পানির রিজার্ভ ট্যাংক থেকে রিফাতের লাশ উদ্ধার করে। পরদিন মঙ্গলবার ২৬ ফেব্রুয়ারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে তার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়; কিন্তু মামলা করতে গেলে দক্ষিণখান থানা পুলিশ বলে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মামলা নেওয়া যাবে না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্বজন ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার রাতে তারা শিশুটির লাশ নিয়ে স্থানীয় মুন্সি মার্কেট থেকে শুরু করে উত্তরা পর্যন্ত মিছিল করে। পরে তারা মধ্য আজমপুর ও এর আশেপাশের এলাকায়ও বিক্ষোভ করে। এ সময় অজিত কুমারের বাড়িতে ভাঙচুরও করে এলাকাবাসী।

পুলিশ জানায়, অজিত বসাকের বাড়ির পানির রিজার্ভ ট্যাংকের ঢাকনা ছিল না। অনিরাপদ অবস্থায় পানির রিভার্জ ট্যাংক ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে জনি নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা সাংবাদিকদের জানান, রিফাতের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এতেই বোঝা যাচ্ছে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পানির ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়। আর পানির ট্যাংকের ওপর বস্তাসহ কিছু জিনিসপত্র রাখা ছিল। সুতরাং শিশুটি অসাবধানতায় পানির ট্যাংকে পড়ে যাওয়ার কথা নয়।

রিফাতের পারিবারিক সূত্র জানায়, লাশ উদ্ধারের পর গতকাল সকালে রিফাতের বাবা আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে বাড়ির মালিক অজিত কুমার বসাক ও তার স্ত্রী রেখা রানী বসাকের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, গতকাল বেলা ১২টার দিকে উত্তেজিত এলাকাবাসী লাশ নিয়ে আজমপুরে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে। রাজলক্ষ্মী মোড়ের কাছে ইউলুপে এলাকাবাসী ব্যারিকেড দেয়। এতে দুই দিকে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। এসময় এলাকাবাসী কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে।

দক্ষিণখান থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শফিকুল গনি বলেন, এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ভুল বোঝাবোঝির কারণে সড়কে অবস্থান নিয়েছে স্থানীয়রা। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে বুধবার অভিযুক্তদের আসামি করে মামলা নিয়েছে পুলিশ। এরপর বাড়ির মালিক অজিত কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারপরও তারা না বুঝে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জড়ো করে সড়ক অবরোধ করেছে। বিকালে বিচারের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।