ফিলিপাইনকে ১০ গোলে হারাল বাংলাদেশ

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৭

ফিলিপাইনের বিপক্ষে বাংলদেশের মেয়েরা মাঠে নামার আগে হাজারো দুশ্চিন্তায়। ফিলিপাইন কেমন হবে। তাদের খেলোয়াড়রা কেমন। কখনো যাদের বিপক্ষে খেলা হয়নি তাদের বিপক্ষে হঠাত্ একটা ম্যাচ। নানা পরিকল্পনা এঁকে রেখেছিল বাংলাদেশ। ড্রেসিং রুম থেমে মাঠে নামার আগে কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনও তার মেয়েদের টনিক দিয়ে দিয়েছিলেন এটাই ফাইনাল ম্যাচ। প্রথম খেলাটা ভালো খেলতে পারলে পুরো দলের ভেতরে সেটা ওষুধের কাজ দেয়। অচেনা অজানা ফিলিপাইনাকে নিয়ে আশঙ্কা ছিল। তাই যেকোনো ভাবেই হোক ফিলিপাইনকে কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা, আনাই মগিনি, তহুরা খাতুন, নীলা, মনিকারা খেলার আগের দিন অনুশীলন মাঠে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। যুদ্ধ জয় করতে চান। ছোট ছোট এই মেয়েরা কাল মিয়ানমার মান্দালা থ্রি স্টেডিয়াম মাঠে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। ফিলিপাইনকে মাঠে দাঁড়াতেই দেয়নি মারিয়ারা। এই ফুটবলার ঢাকায় বলে গিয়েছিলেন আমরা ফিলিপাইনের সঙ্গে খেলিনি কখনো। কেমন কে জানে, নিশ্চই শক্তিশালী দল হবে। শক্তিশালী মনে করেই কাল লড়াইয়ে নেমে বাংলার মেয়েরা ফিলিপাইনকে দাঁড়াতে দিল না। গুনে গুনে ১০ খানা গোল ফিলিপাইনের জালে।

হ্যাটট্রিক করেছেন তহুরা খাতুন। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করেন তহুরা। প্রথমার্ধে হাফ ডজন গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দল। বাকি চার গোল হয়    দ্বিতীয়ার্ধে। মিয়ানমারে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ‘বি’ গ্রুপের খেলা শুরু হয়েছে কাল। এই গ্রুপ থেকে ২টি দল চূড়ান্ত পর্বে উঠবে। আরেকটি গ্রুপের খেলা লাওসে হবে। এই দুই গ্রুপ হতে সেরা চার দল এবং উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং স্বাগতিক থাইল্যান্ডসহ ৮ দলের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী অক্টোবরে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে গত বছর সেপ্টেম্বরে ঢাকার মাঠে প্রথম পর্বের বাছাইয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। ১০-০ গোলে বাহারাইনকে, ৮-০ গোলে লেবাননকে, ৭-০ গোলে আরব আমিরাতকে, ২-০ গোলে ভিয়েতনামকে হারিয়ে ছিল। সেই বাছাইয়েও তহুরা খাতুন, সামসুন নাহার, আনুচিং মগিনিরা গোল করেছিলেন। এবারও গোল পেয়েছেন এই মেয়েরা।

প্রথমার্ধে তহুরা ৪ গোল করেন। তহুরার গোলের ফাঁকে জুনিয়র সামসুন নাহার গোল করেন ৫-০।  ৫-০ গোলের পর সিনিয়র সামসুন নাহার ৪২ মিনিটে পেনাল্টি হতে গোল করেন ৬-০। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝড়ে ভেঙে পড়া ফিলিপাইনের রক্ষণভাগের ভিলাসিনের ভুলে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে গেলে আরো এগিয়ে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা ৭-০। দ্বিতীয়ার্ধে আনুচিং মগিনি নিজের প্রথম গোল করেন ৮-০। অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা করেন অষ্টম গোল ৯-০। আনুচিং মগিনি নিজের দ্বিতীয় গোল করেন, ১০-০।