রাজধানীতে দুইজন গুলিবিদ্ধ, একজন গণপিটুনির শিকার

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০১:২১

রাজধানীর পল্লবী ও ধানমন্ডি এলাকায় গতকাল বুধবার দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশ দাবি করেছে, ককটেল বিস্ফোরণের পর পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। তারা দু’জনই শিবিরকর্মী। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন টিনু বিশ্বাস (৩৫) ও মাসুদ ইসলাম (১৭)। এদিকে মালিবাগে ককটেল বিস্ফোরণের সময় মামুন (১৯)  নামে এক শিবিরকর্মী গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। তাদের তিনজনকেই ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া পুলিশ গত ২৪ ঘন্টায় রাজধানী থেকে বিএনপি-জামায়াতের ১১ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। 

পল্লবী থানার ওসি সৈয়দ জিয়াউজ্জামান জানান, দুপুর ১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের ভাসানী মার্কেটের সামনে জামায়াত-শিবিরের ব্যানারে ২০/২৫ জন ঝটিকা মিছিল করে। পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে মিছিলকারীরা পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে টিনু গুলিবিদ্ধ হন। তবে টিনু বিশ্বাস পুলিশের এ বক্তব্য অস্বীকার করে জানান, তিনি পরিবারের সঙ্গে পল্লবীর রূপনগরে ১২ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাড়িতে থাকেন। সাভারে তার একটি বায়িং কারখানা আছে। তিনি কারখানার জন্য কাপড়ের রং কিনতে ভাসানী মার্কেটে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে দু’পায়ে গুলি করে গাড়িতে তোলে।
ধানমন্ডি থানা পুলিশ জানায়, মাসুদ বিকাল পৌনে চারটার দিকে  ধানমন্ডি ৬ নম্বর  রোডে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় পুলিশ তাকে ধাওয়া করলে তিনি পুলিশের ওপর ফের ককটেল নিক্ষেপ করার চেষ্টা করেন। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি করলে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। মাসুদ শিবিরকর্মী দাবি পুলিশের। তবে  মাসুদ জানিয়েছেন, তিনি ক্যামব্রিয়ান কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র। তার বাসা লালবাগের আজিমপুর ইরানী কবরস্থানের পাশে। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের মাইজদী। রমনা থানা পুলিশ জানায়, দুপুর দেড়টার দিকে মালিবাগ সাফেনা হাসপাতাল গলিতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালাবার চেষ্টাকালে জনতা মামুনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ জানিয়েছে, মামুন শিবিরকর্মী। মামুন নিজেকে তিতুমীর কলেজের ছাত্র দাবি করেছেন।

বিএনপি-জামায়াতের ১১ জন গ্রেফতার: ডিএমপি ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৪ ঘন্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের ১০ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। অপরদিকে বাড্ডা থানা পুলিশ গতকাল দুপুরে উত্তর বাড্ডা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে উত্তর বাড্ডা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হারুন অর রশিদকে।