দগ্ধ ৮৩ জন সুস্থ হয়ে ফিরলেন স্বজনদের কাছে

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৩:২৫

রাজনৈতিক সহিংসতায় দগ্ধ রোগীদের বিরামহীন সেবা দিয়ে দেশে-বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট। নাশকতাকারীদের ঘৃণ্য আগুনে পোড়া রোগীদের পরম মমতায় ক্লান্তিহীন সেবা দিচ্ছেন বার্ন ইউনিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিয়মিত তদারকি, চিকিত্সক, নার্স এবং কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে ৮৩ জন দগ্ধ রোগী সুস্থ হয়ে স্বজনদের কাছে ফিরেছেন। দগ্ধ রোগীদের ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠেছে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিটটি। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪৫ দিনের টানা অবরোধ এবং হরতালে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মী কর্তৃক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে ১৪০ জন ভর্তি হয়েছিলেন বার্ন ইউনিটে।

একইসঙ্গে বেদনার বিষয় হলো ফেনীর লালপুরে পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হোসেন মিয়া চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল মারা গেছেন। এ নিয়ে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সা নিতে আসা ১০ জনের মৃত্যু হলো।
দগ্ধ একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সা ব্যবস্থা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। এখানে তারা ভালো চিকিত্সা পাচ্ছেন বলেই জানালেন। রোগীরা বলেন, এ বার্ন ইউনিটে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তারা ভালো চিকিত্সা পাচ্ছেন। চিকিত্সক ও নার্সদের আন্তরিকতায় রোগীরা মুগ্ধ। নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বার্ন ইউনিট তার সবোর্চ্চটা উজাড় করে দিচ্ছে।
অত্যাধুনিক চিকিত্সা ব্যবস্থা ও ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট সুবিধা রয়েছে বার্ন ইউনিটে। যদিও তা দেশের পোড়া রোগীদের তুলনায় খুবই সামান্য।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা ডা. সামন্ত লাল সেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখানে এমন অনেক রোগী সেরে উঠেছেন যেটা দেখে আমরাও বিস্মিত। এটা মিরাকল ছাড়া আর কিছুই না। অনেক রোগীর শ্বাসনালী, মুখমণ্ডল ও শরীরের প্রায় পুরোটা পুড়ে যাওয়ার পরেও সে সুস্থ হয়ে উঠেছে। আমরা রোগী এবং তাদের স্বজনদের মুখে হাসি দেখে অনেক খুশি। এটাই আমাদের আরো আন্তরিক হয়ে কাজ করতে উত্সাহ দেয়।
জানা যায়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৫০ বেডের বার্ন ইউনিট ২০০৩ সালে চালু হয়। ২০১১ সালে ৫০ বেডের বার্ন ইউনিটকে ১০০ বেডে উন্নীত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফের ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী ১০০ বেডের বার্ন ইউনিটকে ৩০০ বেডে উন্নীত করার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে বার্ন ইউনিটে ৫ শতাধিক পোড়া রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছেন। যাদের অনেকেই রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। রয়েছে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ রোগীর চাপও।
বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম বলেন, আমাদের এখানে ৫৩ জন চিকিত্সক নিরলসভাবে পোড়া রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে সরকার অতিরিক্ত আরো ২৪ জন চিকিত্সক ও ১৬ জন নার্স নতুন করে বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেছে। অনেক সীমাবদ্ধতা  সত্ত্বেও আমরা আন্তরিকভাবে সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি।
বার্ন ইউনিটের চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ খন্দকার বলেন, আমাদের এখানে আন্তর্জাতিক মানের চিকিত্সা সেবা দেয়া হয়। ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হয়। এছাড়া এখানে মৃত্যুর হারও অনেক কম।
বার্ন ইউনিটে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত: দেশে প্রতিবছর ৯ লাখ মানুষ আগুনে পুড়ে। আগে পোড়া রোগীদের শতকরা ৮০ ভাগ মারা যেতো। তবে বর্তমানে মৃত্যু হার অনেক কমেছে।