আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। তাই বিএনপি যদি সহিংস কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে তাহলে জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আরো কঠোর হবে। তিনি বলেন, কেউ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করলে সরকার কোন বাধা দেবে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপিকে গত ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করতে দিলে আরেকটি শাপলা চত্বর হতো। এই সমাবেশের মধ্যদিয়ে বিএনপি সরকার হঠানোর ষড়যন্ত্র করেছিল। গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। বিএনপি-জামায়াতকে আর সুযোগ দেয়া হবে না। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম সরকারের সরলতার সুযোগে সমাবেশের নামে রাজধানীতে তাণ্ডব চালিয়েছিল। কাউকে আর সন্ত্রাস করতে দেয়া হবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশিরা সংলাপের আহ্বান জানাতেই পারেন। কিন্তু যারা আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে, তাদের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনা হবে না। তিনি বলেন, তারা হরতাল-অবরোধের নামে জনগণের সঙ্গে তামাশা করছে। লাদেন ও নকশাল স্টাইলে আত্মগোপনে থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করছে।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস না করার আহবান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা পুলিশের বাধার মুখেও জনতার মঞ্চ করেছিলাম। মার খেয়ে রাস্তায় শুয়ে পড়েছি। তার পরেও আন্দোলন করেছি। এদেশে হরতাল-অবরোধ হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। মানুষ মারার আন্দোলন সফল হবে না। হরতাল জনগণ মানছে না। মানুষ মারার রাজনীতি বন্ধ করুন।
বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি হারুন-অর রশীদ হাওলাদারের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রউফ এমপি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল আহমদ, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার, মৌলভীবাজার কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, হালুয়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক খান, আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
