দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তীব্র আকার ধারণ করায় বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ভরসা পাচ্ছেন না। ফলে সূচকের ওঠা-নামার মধ্যেও লেনদেন হচ্ছে খুব কম। দুই দিন ছাড়া ১৫ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সব দিনই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে তিন শ কোটি টাকার নিচে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন—কিছু-কিছু কোম্পানির শেয়ারদর অনেক কমে গেছে। তাই বিনিয়োগকারীরা কিছু কিছু কোম্পানিতে তাদের বিনিয়োগ পরিবর্তন করছেন। এ জন্য সূচক বাড়ছে। তবে নতুন বিনিয়োগ না আসায় লেনদেন খরা দেখা দিয়েছে।
তথ্যে দেখা গেছে—রবিবার ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৮০২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৮৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৪৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ২১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা কম। লেনদেনকৃত ৩১০টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৪টির, কমেছে ১২৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৮টি কোম্পানির শেয়ারের। অপর দিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৬৯৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার, যা আগের দিনের তুলনায় ৪ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ২৩৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৫টির, কমেছে ৯৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টি কোম্পানির শেয়ারের।
আইডিএলসির দৈনন্দিন বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের অর্থনীতি অনেকটাই স্থির হয়ে পড়েছে। ফলে পুঁজিবাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আস্থা পাচ্ছেন না। লেনদেন অব্যাহতভাবে পড়ে যাচ্ছে। এ দিকে, রবিবার লেনদেন ও দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল বিদ্যুত্ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি শাহজিবাজার পাওয়ার। এ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। রবিবার লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওষুধ ও জ্বালানি খাত। এ দুই খাতে লেনদেন হয়েছে ৮৪ কোটি টাকার। যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৪ শতাংশ।
