আবাসন খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারধারীদের ব্যাংক হিসাবের খোঁজ-খবর নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়কর বিবরণীতে দেয়া প্রকৃত আয় ও সম্পদের তথ্যে গরমিল রয়েছে এমন সন্দেহেই দেশের বড় দশটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ও নয়জন পরিচালকের ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এসব কোম্পানি ও শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত জানতে চেয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়েছে কর অঞ্চল-৫।
এনবিআরের চিঠিতে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হলো, বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াজ লিমিটেড, গ্রিন ডেল্টা হাউজিং, কনক্রিট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কনসালটেন্ট, বিশ্বাস বিল্ডার্স, এসিং হোল্ডিংস, অরণি প্রোপার্টিজ, গার্ডেন রিয়েল এস্টেট, হোমস্কেপ ও ফাস্ট ডেভেলপমেন্ট।
একইসঙ্গে বিল্ডিং টেকনোলজির পরিচালক আরশি হায়দার, তার মেয়ে হিনা হায়দার, আমিন মোহাম্মাদ ফাউন্ডেশনের পরিচালক রমজানুল হক নিহাদ, ক্যাপিটাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের পরিচালক মুকাররম হোসেইন খান, তার স্ত্রী জেবা আমিনা খান, গ্রিন ডেল্টা হাউজিংয়ের পরিচালক আমির হোসেন, তার ভাই দিলদার হোসেন এবং বিশ্বাস বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলামের ব্যাংক হিসাবের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
২০০৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নামে বা যৌথনামে চলতি হিসাব, সঞ্চয়ী হিসাব, এফডিআর, ডিপিএসসহ সব ধরনের আমানত হিসাব, সিসি, এসওডি, মর্টগেজসহ সব ধরনের ঋণ হিসাব, আমদানি-রফতানিসহ সব ধরনের বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন এবং সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের তথ্য চেয়েছে এনবিআর।
এনবিআরের সন্দেহ, প্রকৃত আয় গোপন করে বড় ধরনের করফাঁকি দিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। এনবিআর বলছে, আয়কর রিটার্নে যে বিবরণ তারা দিয়েছেন তার সঙ্গে তাদের আয় ও সম্পদের মিল নেই। প্রকৃত সম্পদের সঙ্গে ঘোষিত সম্পদের তফাত্ আছে কি না- তা যাচাই করতেই হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।
