রাজনৈতিক সঙ্কটে বেলকুচিতে ৭০ হাজার তাঁতকল বন্ধ

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২৩:২৩

টানা হরতাল অবরোধের কারণে তাঁত শিল্পসমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার তাঁতকল বন্ধ হয়ে গেছে। এ শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় দুই লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। হরতাল-অবরোধ আরোও কিছুদিন চলতে থাকলে বাকি তাঁতগুলোও  বন্ধ হয়ে যাবার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলা এলাকায় প্রায় ৯০ হাজার বিদ্যুত্চালিত তাঁত (পাওয়ারলুম) রয়েছে। একটি পাওয়ারলুমে প্রতিদিন কাপড় উত্পাদন হয় ৭০-৮০ মিটার। এছাড়া হস্তচালিত তাঁত রয়েছে লক্ষাধিক। হস্তচালিত তাঁতে প্রতিদিন উত্পাদন ক্ষমতা ২০-২৫ মিটার কাপড়। বৃহত্ কাপড়ের হাট বেলকুচির সোহাগপুর, ঐতিহ্যবাহী শাহজাদপুর ও এনায়েতপুর হাটে তোলা হয়। এ হাট সপ্তাহে তিনদিন বসে। ১৫-২০ দেশের বিদেশি ক্রেতা এ হাটে এসে কাপড় কিনে নিয়ে যেতো এবং রাজধানী ঢাকাসহ দেশের জেলা-উপজেলার কাপড় ব্যবসায়ীরা এ হাটে এসে কাপড় কিনে নিয়ে সারাদেশে সরবরাহ করতো। অনির্দিষ্টকালের হরতাল-অবরোধের কারণে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এসব হাটে আসতে পারছে না। কাপড় বিক্রি করতে পারছে না। তাঁত মালিকরা তাঁত শ্রমিকের বিল পরিশোধ করতে না পারায় প্রায় দুই লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

অর্ধলক্ষাধিকের বেশি তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি তাঁতগুলোও বন্ধ হওয়ার পথে। শেরনগর গ্রামের বিশিষ্ট তাঁত ব্যবসায়ী আলহাজ্ব এমএ বাকী বলেন, আমার ফ্যাক্টরিতে ৫২টি পাওয়ারলুম ও ২০০টি হস্তচালিত তাঁত রয়েছে। সবগুলো তাঁতই হরতাল-অবরোধের আগে চালু ছিল। এখন ৪০-৫০টি তাঁত চালু আছে বাকিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকদের মজুরি না দিতে পারায় তারা বেকার হয়ে পড়েছে। বেলকুচি, এনায়েতপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলার মানুষ তাঁত শিল্পের উপর নির্ভরশীল। গোপালপুর গ্রামের তাঁত মালিক আব্দুস ছালাম প্রামাণিক বলেন, আমার ৩০টি তাঁত চালু ছিল। সবই এখন বন্ধ হয়েছে গেছে। আমার সংসারে ৯ জন সদস্য। এখন এমনই অবস্থা হয়েছে যে, চাল কেনার টাকা নেই। শাহপুর গ্রামের তাঁত মালিক হাজী আব্দুল হামিদ বলেন, আমার ২০টি তাঁতই বন্ধ। ঘরে উত্পাদিত কাপড় আছে ক্রেতা না থাকায় বিক্রি করতে পারছি  না। এ কারণে তাঁত শ্রমিকদের বিল পরিশোধ করতে পারছি না। শ্রমিকদের ভয়ে আত্মগোপন করে আছি।